জাবিতে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও NextEra for Environment, Equity & Rights (NEER)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী “Sustainable Plastic Waste Management Practices in Jahangirnagar University (Source Segregation Campaign)” শীর্ষক পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন NEER-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়সাল আহম্মেদ স্বাধীন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, UNIDO Bangladesh-এর প্রতিনিধিবৃন্দ, জাকসুর সদস্য, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।অনুষ্ঠানে জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সম্পাদক শাফায়াত মীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল মীর মশাররফ হোসেন হল গেট থেকে প্রান্তিক গেট পর্যন্ত এলাকা ‘নো-হর্ন জোন’ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন, মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় গ্রীন ব্যারিয়ার নির্মাণ, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ ডাম্পিং স্টেশন বন্ধ করে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, লেক ও জলাশয় সংরক্ষণে বাজেট বরাদ্দ, ৪২টি স্থায়ী ও ৪৬টি অস্থায়ী ওয়েস্ট বিন স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু কর্মসূচি আয়োজন নয়, কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ক্যাম্পাসের ছাত্রী হলসংলগ্ন মহাসড়কে শব্দ ও বায়ুদূষণ রোধে গ্রীন ব্যারিয়ার নির্মাণ, জলাশয় সংরক্ষণে ইটিপি (ETP) স্থাপন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে সব ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টির দায় স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এমনটি আর হবে না বলে আশ্বাস দেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিক দূষণ, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং সীসা দূষণ বর্তমানে দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তিনি জানান, সম্প্রতি Extended Producer Responsibility (EPR) নীতিমালার গেজেট প্রকাশ হয়েছে, যার মাধ্যমে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে সীসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আচরণগত পরিবর্তন এবং উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যদি সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তবে তা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হবে।এ সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার উপকূলীয় অঞ্চলে দুই কোটি কেওড়া গাছ রোপণ এবং কার্বন ক্রেডিট কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠান শেষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা”-এ অংশগ্রহণকারী ২৯৩ জনের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।সবশেষে আয়োজকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ ও টেকসই ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কার্যকর সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন।