মৃত মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ৈতলী গ্রামের বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর জামাতা। তিনি স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা এবং একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। পুলিশের দাবি ধর্ষণচেষ্টার মামলায় তাকে আটক করে নিয়ে আসার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পর এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
ফরিদগঞ্জ হাসপাতালে এসে লাশের অবস্থান দেখে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে কড়ৈতলী গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ি থেকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। থানায় নিয়ে আসার পথে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাকসুদুল হাসান বলেন, সকাল ৫টা ৫০ বা কাছাকাছি সময়ে পুলিশ মিজানুর রহমান নামে একজনকে নিয়ে আসে। আমরা দ্রুত তাকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দ্রুত তাকে ইসিজিসহ যাবতীয় চিকিৎসা দিলেও তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে কড়ৈতলী গ্রামের ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে দায়েরকৃত সেই মামলার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরবেলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যাহর নির্দেশে এসআই নুরুল আলম ফোর্স নিয়ে মিজানুর রহমানের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। এরপর মিজানুর রহমানকে নিয়ে আশার পথিমধ্যে গাজীপুর বাজারে এলে তিনি অসুস্থবোধ করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়; এর কিছুক্ষণ পরেই মারা যান তিনি।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর রাব্বীর উপস্থিতিতে পুলিশ লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের শ্যালক সাবেক ইউপি সদস্য আলী হায়দার উজ্জ্বল জানান, কড়ৈতলী বাইতুল হামদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও রওশনআরা নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। তিনি রূপসা উত্তর ইউনিয়নের মজুমদার বাড়ির শরাফত আলী মাস্টারের ছেলে। তিনি ২০০১ সাল থেকে শ্বশুরবাড়িতেই সপরিবারে থাকতেন।
একটি মিথ্যা অভিযোগে স্থানীয় আবুল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে আসিফ ভূঁইয়ার সহযোগী লোকজন একটি ফেসবুক লাইভ করে। তারা আমার ভগিনীপতির কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাদের যোগসাজশেই পুলিশ তাকে আটক করে মানসিক নির্যাতন করেছে। কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই মিথ্যা অপবাদ সহ্য করতে না পেরেই তিনি মারা গেছেন। উনার গোপনাঙ্গে ফোলা ও জখম দেখা গেছে। আমি এর বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, আমার বোনের জামাই পুলিশের কাছে অনুরোধ করছেন যেন তাকে ফজরের নামাজটা ঘরে আদায় করতে দেওয়া হয়। পুলিশ কেন তাকে নামাজ আদায় করতে দেয়নি।