ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলায় গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ক্ষতিগ্রস্ত চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হলেও আহত চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

দৃ‌ষ্টি হারালেন আলিফ চৌধুরী



দৃ‌ষ্টি হারালেন আলিফ চৌধুরী
ছবি: সংগৃহীত

 আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)  জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের পর আলিফের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতা‌লের ডিউটি চিকিৎসক সামিয়া নুজহাত যুগান্তরকে বলেন, অপারেশনের প্রায় আধা ঘণ্টা পর রোগীর জ্ঞান ফিরে এসেছে। বর্তমানে তার রক্তচাপ, পালস, অক্সিজেন স্যাচুরেশনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক স্বাভাবিক রয়েছে।

ডা. সামিয়া নুজহাত বলেন, রোগী নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কী দিয়ে আঘাত লেগেছে। তবে এটি কোনো ধারালো বস্তু, যেমন পাথর বা ইটের টুকরো হতে পারে। আঘাতের কারণে চোখের গোলক (আইবল) ফেটে যায় এবং ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। পাশাপাশি চোখের ওপরের ও নিচের পাতা (আইলিড) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখের পানি নাকে যাওয়ার নেত্রনালী (ল্যাক্রিমাল ডাক্ট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গোলক, চোখের পাতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রনালী মেরামত করা হয়েছে। তবে এ ধরনের গুরুতর আঘাতের পর কিছু স্থায়ী প্রভাব থেকে যেতে পারে। আগের মতো স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি ফিরে নাও আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চোখটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অপারেশনের পর ক্ষত কতটা ভালোভাবে সারে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় দৃষ্টিশক্তি আগের মতো ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম।

তিনি আরও বলেন, চোখের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে পারে। কিন্তু আলিফের ক্ষেত্রে পুরো চোখের গঠনই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আবদুল আহাদ যুগান্তরকে বলেন, অস্ত্রোপচারের আগেই সিলেটে প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা আক্রান্ত চোখে নো পারসেপশন অব লাইট (এনপিএল) শনাক্ত করেন। অর্থাৎ ওই চোখে আলো দেখার ক্ষমতাও ছিল না এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকেরা ধারণা করেন।

ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য ছিল মূলত ক্ষতিগ্রস্ত চোখের সংক্রমণ যেন অন্য চোখ বা আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে না পড়ে। একই সঙ্গে চোখের বাহ্যিক গঠন যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা এবং চোখটি যেন গর্ত হয়ে না যায়, সেটিও অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য ছিল।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত চোখের রেটিনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গঠন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিটি স্ক্যানেও চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি দেখা গেছে। তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গঠন মেরামত করা গেলেও ওই চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।

চিকিৎসকদের মতে, চোখের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা থাকে। বিদেশে নেওয়া হলেও চিকিৎসা পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য হবে না এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।

বিষয় : এনসিপি

The Campus Times online

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


দৃ‌ষ্টি হারালেন আলিফ চৌধুরী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

 আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)  জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আলিফের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

অস্ত্রোপচারের পর আলিফের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতা‌লের ডিউটি চিকিৎসক সামিয়া নুজহাত যুগান্তরকে বলেন, অপারেশনের প্রায় আধা ঘণ্টা পর রোগীর জ্ঞান ফিরে এসেছে। বর্তমানে তার রক্তচাপ, পালস, অক্সিজেন স্যাচুরেশনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক স্বাভাবিক রয়েছে।

ডা. সামিয়া নুজহাত বলেন, রোগী নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কী দিয়ে আঘাত লেগেছে। তবে এটি কোনো ধারালো বস্তু, যেমন পাথর বা ইটের টুকরো হতে পারে। আঘাতের কারণে চোখের গোলক (আইবল) ফেটে যায় এবং ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। পাশাপাশি চোখের ওপরের ও নিচের পাতা (আইলিড) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখের পানি নাকে যাওয়ার নেত্রনালী (ল্যাক্রিমাল ডাক্ট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গোলক, চোখের পাতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রনালী মেরামত করা হয়েছে। তবে এ ধরনের গুরুতর আঘাতের পর কিছু স্থায়ী প্রভাব থেকে যেতে পারে। আগের মতো স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি ফিরে নাও আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চোখটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অপারেশনের পর ক্ষত কতটা ভালোভাবে সারে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় দৃষ্টিশক্তি আগের মতো ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম।

তিনি আরও বলেন, চোখের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে পারে। কিন্তু আলিফের ক্ষেত্রে পুরো চোখের গঠনই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আবদুল আহাদ যুগান্তরকে বলেন, অস্ত্রোপচারের আগেই সিলেটে প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা আক্রান্ত চোখে নো পারসেপশন অব লাইট (এনপিএল) শনাক্ত করেন। অর্থাৎ ওই চোখে আলো দেখার ক্ষমতাও ছিল না এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকেরা ধারণা করেন।

ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য ছিল মূলত ক্ষতিগ্রস্ত চোখের সংক্রমণ যেন অন্য চোখ বা আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে না পড়ে। একই সঙ্গে চোখের বাহ্যিক গঠন যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা এবং চোখটি যেন গর্ত হয়ে না যায়, সেটিও অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য ছিল।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত চোখের রেটিনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গঠন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিটি স্ক্যানেও চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি দেখা গেছে। তাই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের গঠন মেরামত করা গেলেও ওই চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।

চিকিৎসকদের মতে, চোখের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেলে চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা থাকে। বিদেশে নেওয়া হলেও চিকিৎসা পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য হবে না এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
দৃ‌ষ্টি হারালেন আলিফ চৌধুরী
0:00 0:00
1.0x