ঢাকা    শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এক মামলায় ফোনকল রেকর্ড দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের দাবি, এটি সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মধ্যকার কথোপকথন।

ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের-সাদ্দামের কল রেকর্ড দাখিল



ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের-সাদ্দামের কল রেকর্ড দাখিল
ওবায়দুল কাদের ও সাদ্দাম হোসেন

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে এটি উপস্থাপন করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, সাদ্দাম হোসেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রীকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি, জমায়েত ও সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে অবহিত করছেন। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কথা শুনে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, তোমরা কিছু করো না কেন? মারো না কেন ওদের? চড়াও হতে দাও কেন ওদের।

জবাবে সাদ্দাম হোসেন তাদের ‘নিষেধ করা হয়েছে’ জানালে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তোমরা বললা আজকে থেকে হালকা হয়ে যাবে সব। কই হালকা হইল? জমায়েত মানে এখানে জামায়াত আর বিএনপি যোগ হইছে।’ তখন সাদ্দাম বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার নির্দেশ’ পেলে তারা সেটি করতে পারবেন। তবে সেদিন শাহবাগের দিকে বা আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি হতে তাদের পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা হয়েছে।

শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাইয়ের ওই কথোপকথনের রেকর্ডটি সিআইডির তরফে ফরেনসিক করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।

তার বক্তব্যে, রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধীনস্ত কাউকে ‘পিটাও না কেন ওদের, মারো না কেন, বাড়তে দাও কেন’ -এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে স্পষ্টত ‘উসকানি’ দেওয়ার অপরাধ।

তিনি বলেন, সামনে বলছেন প্রতিরোধ, কিন্তু ফোনে এবং কার্যকরভাবে উনারা আসলে প্রতিরোধ না, আক্রমণের কথাই বলেছেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজাকার’ মন্তব্যের পর ওবায়দুল কাদেরের ‘উসকানিতেই’ ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেলে তিন শতাধিক ছাত্র-জনতার ওপর ‘সশস্ত্র’ হামলা চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম এসেছে।

গাজী এমএইচ তামিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলা ও হত্যাকাণ্ড কেবল একক নির্দেশ হয়নি, বরং এটি ছিল আওয়ামী লীগের একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত।

এদিন যুক্তিতর্কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালের একটি ফোনালাপও তুলে ধরে প্রসিকিউশন। আগামী রোববার এ মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্ক শুনানি হবে।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলায় পলাতক অপর ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

বিষয় : আওয়ামী লীগ জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছাত্রলীগ ওবায়দুল কাদের সাদ্দাম হোসেন

The Campus Times online

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের-সাদ্দামের কল রেকর্ড দাখিল

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে এটি উপস্থাপন করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, সাদ্দাম হোসেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রীকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি, জমায়েত ও সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে অবহিত করছেন। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কথা শুনে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, তোমরা কিছু করো না কেন? মারো না কেন ওদের? চড়াও হতে দাও কেন ওদের।

জবাবে সাদ্দাম হোসেন তাদের ‘নিষেধ করা হয়েছে’ জানালে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তোমরা বললা আজকে থেকে হালকা হয়ে যাবে সব। কই হালকা হইল? জমায়েত মানে এখানে জামায়াত আর বিএনপি যোগ হইছে।’ তখন সাদ্দাম বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার নির্দেশ’ পেলে তারা সেটি করতে পারবেন। তবে সেদিন শাহবাগের দিকে বা আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি হতে তাদের পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা হয়েছে।

শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাইয়ের ওই কথোপকথনের রেকর্ডটি সিআইডির তরফে ফরেনসিক করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।

তার বক্তব্যে, রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধীনস্ত কাউকে ‘পিটাও না কেন ওদের, মারো না কেন, বাড়তে দাও কেন’ -এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে স্পষ্টত ‘উসকানি’ দেওয়ার অপরাধ।

তিনি বলেন, সামনে বলছেন প্রতিরোধ, কিন্তু ফোনে এবং কার্যকরভাবে উনারা আসলে প্রতিরোধ না, আক্রমণের কথাই বলেছেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজাকার’ মন্তব্যের পর ওবায়দুল কাদেরের ‘উসকানিতেই’ ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেলে তিন শতাধিক ছাত্র-জনতার ওপর ‘সশস্ত্র’ হামলা চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম এসেছে।

গাজী এমএইচ তামিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলা ও হত্যাকাণ্ড কেবল একক নির্দেশ হয়নি, বরং এটি ছিল আওয়ামী লীগের একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত।

এদিন যুক্তিতর্কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালের একটি ফোনালাপও তুলে ধরে প্রসিকিউশন। আগামী রোববার এ মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্ক শুনানি হবে।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলায় পলাতক অপর ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদের-সাদ্দামের কল রেকর্ড দাখিল
0:00 0:00
1.0x