ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী 'আনন্দ' বাসে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভূইগড় স্টপেজে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং বাসটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে এক যুগল পাশাপাশি বসেছিলেন। বাসে ছেলে ও মেয়েদের পৃথকভাবে বসার প্রচলিত নিয়ম থাকায় তাদের আলাদা বসতে অনুরোধ করা হয়। পরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিনা, সে বিষয়ে পরিচয় জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই নারী নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন। এরপরে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসলেও মেয়েটি ফোন দিয়ে নারায়ণগঞ্জের ভূইগড় স্টপেজে ৪০-৫০ জন ছেলে ফোন দিয়ে জড়ো করে বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, হামলার সময় বাসে প্রায় ৪ জন ছেলে ও ১০ জন মেয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন। হামলায় অন্তত একজন নারী শিক্ষার্থী আহত হন এবং সামনের সারিতে বসা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আঘাত পান।
ঘটনার বিষয়ে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, "আনন্দ বাসে হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ফতুল্লা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছি। ডাকসুর পক্ষ থেকে কয়েকজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থল ও থানায় গেছেন। বর্তমানে আনন্দ বাস কমিটির সদস্যসহ ২০–২৫ জন শিক্ষার্থী থানায় অবস্থান করছেন।"
এদিকে আনন্দ কার্যকরী কমিটি ২০২৫–২৬–এর কার্যকরী সদস্য ফাহিম বলেন, "ঘটনার পরপরই সার্বিক সহায়তা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ জানান। এই দুঃসময়ে তাঁদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ আমাদের সাহস ও আস্থা যুগিয়েছে।"
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।