ঢাকা    শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে নিয়ে সৌদি আরবের উদ্যোগে গঠিত প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সৌদি নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের জোট, কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি আরব



ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের জোট, কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি আরব

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, জোটের প্রধান কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় এবং জোটের অভিযান পরিচালনার দায়িত্বও পালন করবেন তিনি।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে অবরোধ আরোপ করে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব এল-মান্দেব প্রণালিও এই বাণিজ্যপথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির পর লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। এতে বিকল্প রুট হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে আসছিল।

সৌদি আরবের জন্য বাব এল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বের আরেকটি কারণ হলো, দেশটির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবু এই জলপথের কাছে অবস্থিত। জুলাইয়ের শেষ দিকে ইয়ানাবু বন্দরে ড্রোন হামলা চালায় হুথি গোষ্ঠী।

ইয়ানাবুতে হামলার পরই নতুন প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় রিয়াদ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সৌদির মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ৬০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ১৪টি দেশ জোটে যোগ দিতে সম্মতি জানায়।

জোটের সদস্য দেশগুলো হলো—বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের পশ্চিমমুখী রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারমুখী পণ্য, লোহিত সাগর ও এর আশপাশের নৌপথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

বিষয় : বিশ্ব সংবাদ

The Campus Times online

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের জোট, কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি আরব

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, জোটের প্রধান কমান্ডার হিসেবে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় এবং জোটের অভিযান পরিচালনার দায়িত্বও পালন করবেন তিনি।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে অবরোধ আরোপ করে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব এল-মান্দেব প্রণালিও এই বাণিজ্যপথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির পর লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে। এতে বিকল্প রুট হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে আসছিল।

সৌদি আরবের জন্য বাব এল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বের আরেকটি কারণ হলো, দেশটির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবু এই জলপথের কাছে অবস্থিত। জুলাইয়ের শেষ দিকে ইয়ানাবু বন্দরে ড্রোন হামলা চালায় হুথি গোষ্ঠী।

ইয়ানাবুতে হামলার পরই নতুন প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় রিয়াদ। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সৌদির মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ৬০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ১৪টি দেশ জোটে যোগ দিতে সম্মতি জানায়।

জোটের সদস্য দেশগুলো হলো—বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের পশ্চিমমুখী রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারমুখী পণ্য, লোহিত সাগর ও এর আশপাশের নৌপথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের জোট, কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি আরব
0:00 0:00
1.0x