ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে হল সংসদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার মধ্যরাতে দু’পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ওইদিন সন্ধ্যার পর ডাকসুর কয়েকজন নেতা ও অমর একুশে হল সংসদের শিবির নেতারা ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট ড. ইলিয়াস আল মামুনকে হল অফিসে অবরুদ্ধ করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। তবে তিনি পদত্যাগে রাজি হননি।
পরে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা ফজলুল হক হল অফিসের সামনে জড়ো হন। একই সময়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে এক শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
অভিযোগ উঠেছে হলের খেলাধুলার বাজেট নিয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট শেয়ার করায় শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিমকে প্রভোস্টের অফিসে ডেকে নিয়ে ফোন চেক করা হয়। এ ছাড়া হলের সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়াসহ মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ছাত্রদলের নেতারা বলেন, ছাত্রশিবির বিভিন্ন হল থেকে নেতাকর্মী এনে হলে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের নেতারা সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ‘নির্যাতক প্রভোস্টের পক্ষ’ নিয়েছে।
ঘটনাস্থলে ছাত্রশিবিরের অমর একুশে হলের এজিএস ওবায়দুর রহমান হাসিবকেও দেখা যায়। তাঁর হাতে একটি ছোট বস্তায় কয়েক জোড়া জুতা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
মো. ইব্রাহিম বলেন, প্রথমে হলের শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। ফুটেজ দেখানো হলে প্রভোস্টের অফিসে দরজা বন্ধ করে তাঁকে হেনস্তা করার প্রমাণ শিক্ষার্থীরা পেতেন। রাত ২টা পেরিয়ে গেলেও ফুটেজ দেখানো হয়নি। পরে ঘটনাটি ‘চিরাচরিত প্রথা’ অনুযায়ী ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। উভয় পক্ষই অন্য হল থেকে নিজেদের লোকজন নিয়ে আসে। এতে মূল ঘটনার বিচার থেকে তিনি বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় হল অফিস থেকে প্রভোস্টকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রক্টরকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এনিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে প্রভোস্টকে রক্ষার অভিযোগ করা হয়েছে। ছাত্রদল বলছে, ছাত্রশিবির বিচার দাবির বিষয়টি পাশ কাটিয়ে হলের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ফজলুল হক হল ছাত্রদল। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রভোস্টের পদত্যাগ ও শাস্তি, অভিযুক্ত কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা, হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্রসংগঠন যাতে প্রশাসনের হয়ে পেশিশক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের লিখিত নিশ্চয়তা দাবি করা হয়েছে। এসব দাবি তুলে ধরতে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এ সময় ঢাবি শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।