ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে পূজা ও প্রার্থনা শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ধর্মালোচনা, গীতাপাঠ ও কীর্তনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ধর্মালোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে মতিনুর রহমান বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ধরাধামে আসার মূল উদ্দেশ্যই ছিল—দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং সৎ ও পুণ্যবান মানুষদের রক্ষা করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। আমরা এটিকে সামনে নিয়ে অগ্রসর হতে পারলে সমাজ, দেশ, পরিবার ও পৃথিবী একটি পুণ্যবান মানুষে পরিপূর্ণ হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু ব্যবধান না রেখে সকল নাগরিকের মূল পরিচয় ‘বাংলাদেশি’। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দর্শন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় সব ধর্মের সম্মান, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সভাপতিত্বে ধর্মালোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এবং শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন বাবর ফিরোজ।
ধর্মালোচনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জের শিবালয়ের রাধামদন গোপাল মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈতবংশোদ্ভব নন্দলাল গোস্বামী। বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস, অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল। জন্মাষ্টমীর পূজার পৌরোহিত্য করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ প্রতীম চক্রবর্তী।
উল্লেখ্য, দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, গীতাপাঠ ও কীর্তনে মুখর হয়ে ওঠে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।