বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ।
তিনি জানান, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত আসামি রুবেলকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া অন্য একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকালে শিশুটি নিখোঁজ হয়। থানায় জিডি করেও সন্ধান না মেলায় ৭ দিন পর ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন শিশুর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
মামলায় প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সি রুবেলকে আসামি করা হয়। তাকে গ্রেফতারের করার পর জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই শিশুটির লাশের খবর জানতে পারে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ৯ দিন পর মুরগির ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির একটি গেঞ্জি, এক জোড়া স্যান্ডেল, একটি কালো পায়জামা ও একটি গাঢ় নেভি ব্লু রঙের হিজাবও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, খুন ও লাশ গুমের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ৮ জুলাই আসামিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষ হলে আদালত ২০ জুলাই রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। সোমবার প্রদত্ত রায়ে তার মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।