শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত রাতের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার মহারশি, ভোগাই, সোমেশ্বরী, চেল্লাখালী, ব্রহ্মপুত্র ও মৃগী নদীর পানি বেড়েছে। আজ সোমবার বিকেলের তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার এবং ভোগাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নদীর পানি বাড়ায় নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ও কলসপাড় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের নিচু এলাকাতেও পানি ঢুকেছে। মহারশি নদীর পানি বেড়ে বাঁধ উপচে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে প্রবেশ করলেও দুপুরের পর থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, `চেল্লাখালী নদীতে ঢল নামায় নালিতাবাড়ী থেকে গাজীরখাম হয়ে শেরপুর সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় পানি উঠে যায়। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এখন পানি কমতে থাকায় হালকা যান চলাচল শুরু হয়েছে।'
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমিন বলেন, `পাহাড়ি ঢলের পানি উপজেলা সদরে উঠেছিল। তবে দ্রুতই পানি নেমে গেছে। কিছু নিম্নাঞ্চলে এখনো পানি রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।'
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, `গত ২৪ ঘণ্টার টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তবে এখন ধীরে ধীরে পানি কমছে। চেল্লাখালী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আরও বৃষ্টি হলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের পরিধি বাড়তে পারে।'