ঢাকা    মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর কর্মস্থল বা নিয়োগকর্তার কাছে অভিযোগ করা স্ত্রীর জন্য ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, এমন পদক্ষেপে স্বামীর চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ভরণপোষণ বা খোরপোশের দাবিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

দাম্পত্য বিরোধে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ দেওয়া ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’



দাম্পত্য বিরোধে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ দেওয়া ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’
দাম্পত্য কলহে স্বামীর প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীর অভিযোগ দেওয়া সবচেয়ে খারাপ। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি বিচারপতি বি ভি নাগারথনা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালত বলেন, দাম্পত্য বিরোধের কারণে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা এক বিষয়, কিন্তু আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে জীবনসঙ্গীর জীবিকা অর্জনের পথ বাধাগ্রস্ত করা আরও গুরুতর বিষয়।

মামলাটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) এক কর্মকর্তাকে ঘিরে। ওই কর্মকর্তার স্ত্রী বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেন, তার স্বামী চাকরির সেবা বিধি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তার এক সহকর্মী আসামের একটি আদালতে ওই নারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরে নারী মামলাটি গাজিয়াবাদে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান। তার যুক্তি ছিল, স্বামীর বিরুদ্ধে করা একাধিক মামলার শুনানি গাজিয়াবাদেই চলছে।

শুনানিকালে বিচারপতি বি ভি নাগারথনা বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ করা এমন একটি পদক্ষেপ, যা শেষ পর্যন্ত স্বামীর চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে। আর চাকরি না থাকলে ভরণপোষণ দাবি করাও জটিল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, স্ত্রীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেলের স্বামী আগে স্ত্রী ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিমানবাহিনীর একটি হেলমেট চুরির মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন। সেই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মানহানির মামলাটি স্বামী নিজে না করে সহকর্মীর মাধ্যমে করিয়েছেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি আপস-মীমাংসার সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্ট মেডিয়েশন সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয় : ভারত স্বামী-স্ত্রী সুপ্রিমকোর্ট

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


দাম্পত্য বিরোধে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ দেওয়া ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

সম্প্রতি বিচারপতি বি ভি নাগারথনা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালত বলেন, দাম্পত্য বিরোধের কারণে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা এক বিষয়, কিন্তু আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে জীবনসঙ্গীর জীবিকা অর্জনের পথ বাধাগ্রস্ত করা আরও গুরুতর বিষয়।

মামলাটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) এক কর্মকর্তাকে ঘিরে। ওই কর্মকর্তার স্ত্রী বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেন, তার স্বামী চাকরির সেবা বিধি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তার এক সহকর্মী আসামের একটি আদালতে ওই নারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরে নারী মামলাটি গাজিয়াবাদে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান। তার যুক্তি ছিল, স্বামীর বিরুদ্ধে করা একাধিক মামলার শুনানি গাজিয়াবাদেই চলছে।

শুনানিকালে বিচারপতি বি ভি নাগারথনা বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ করা এমন একটি পদক্ষেপ, যা শেষ পর্যন্ত স্বামীর চাকরি হারানোর কারণ হতে পারে। আর চাকরি না থাকলে ভরণপোষণ দাবি করাও জটিল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, স্ত্রীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেলের স্বামী আগে স্ত্রী ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিমানবাহিনীর একটি হেলমেট চুরির মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন। সেই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মানহানির মামলাটি স্বামী নিজে না করে সহকর্মীর মাধ্যমে করিয়েছেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি আপস-মীমাংসার সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্ট মেডিয়েশন সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
দাম্পত্য বিরোধে স্বামীর কর্মস্থলে অভিযোগ দেওয়া ‘সবচেয়ে খারাপ কাজগুলোর একটি’
0:00 0:00
1.0x