প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
সন্তানের মুখ দেখার আগেই বিদায় নিলেন রেমিটেন্স যোদ্ধা শামীম
ডেস্ক নিউজ ||
জানা গেছে, ৩৪ দিন আগে জন্ম নিয়েছে তার একমাত্র কন্যাসন্তান সাফা জান্নাত। অনেক আশা ছিল, দেশে ফিরে সন্তানের মুখ দেখবেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস জীবিত পিতার মুখ দেখা হলো না সেই অবুঝ শিশুর। সে এখন দেখবে তার বাবার অগ্নিদ্বগ্ধ মুখ।
পরিবারের সবাই এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে শামীমের অগ্নিদ্বগ্ধ মুখ দেখার জন্য। স্বামীর এমন মৃত্যুর খবরে শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শামীমের স্ত্রী নাজমা খাতুন মিতু। তিনি বলেন, রোববার সকাল ১০টার দিকে স্বামীর সাথে তার শেষ কথা হয়েছে। স্বামী শামীম তখন তাকে বলেছিলেন সারা রাত ছোট্ট মেয়ে ঘুমাতে দেয়নি। মেয়ে এখন ঘুমিয়েছে। তুমিও ঘুমিয়ে নাও। স্বামীর কথা মতো সেও ঘুমাতে যায়। কে জানতো এই ঘুমের পরে জীবনে আর স্বামীর কণ্ঠ শুনতে পারবে না, তাকে স্পর্শ করতে পারবে না, দেখতে পাবে না। এসব বলে বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন স্ত্রী মিতু।
সোমবার নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের অথৈই পানিতে নৌকায় পাড়ি দিয়ে দিঘীরপাড় গ্রামের কৃষক মো. জাকির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়- একমাত্র ছেলে সন্তান নিহত শামীম হোসেনের জন্য স্বজনদের আহাজারি। উপস্থিত নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, ৫ বছর আগে পার্শ্ববর্তী হালতি খোলাবাড়িয়া এলাকায় নাজমা খাতুন মিতুকে বিয়ে করেন শামীম হোসেন। বিয়ের পর সন্তান না হওয়ায় অনেক ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়েছেন। দীর্ঘ চার বছর পর নাজমা খাতুন মিতু গর্ভবতী হন। গর্ভবতী স্ত্রী মিতু বেগমকে রেখে প্রবাস জীবনে পাড়ি জমান শামীম। সন্তান হবার খুশিতে বিদেশে আত্মহারা হয়ে ওঠেন শামীম। নিয়মিত ভিডিও কল করে মেয়ের মুখ দেখতেন। অনেক স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করবেন; কিন্ত ভাগ্যের নির্মল পরিহার সন্তানকে আর আদর করা হলো না তার। কে জানত ভিডিও কল ছাড়া এ জীবনে প্রিয় কন্যাকে স্পর্শ করে দেখা হবে না। কন্যার মিষ্টি হাসি আর ছোট্ট ছোট্ট হাত-পাগুলো ধরে আদর করা হবে না। নিহত শামীমের মা শাহীনুর বেগম কান্না করতে করতে বলেন, সরকারের কাছে আবেদন, আমার সন্তানের লাশটা আমাদের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেন। অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান সৌদিতে গিয়েছিল। আমার এক মাস বয়সি নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটা দেখতে পেল না।
বাবা জাকির হোসেন বলেন, শামীম আমার একমাত্র ছেলে। তার ওপর ভর করেই সংসার চলত। অনেক ঋণ করে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। এখন সব শেষ!। ৩৪ দিন বয়সি মেয়ে সাফা জান্নাত ও বউমা নাজমা খাতুন মিতুকে রেখে আমার ছেলে চলে গেল। তারেক রহমানের সরকার যেন এই অবুঝ শিশুর ভবিষতের জন্য কিছু করে দেয়।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খান বলেছেন, নিহত পরিবারের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করা হবে। মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ শুরু করেছে।
সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন