প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
ফেলানীকে স্মরণে ডাকসুর খোলা চিঠি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
মো শাহাদাত হোসেন , কাম্প্যাস প্রতিনিধি ||
শহীদ ফেলানীকে উদ্দেশ্য করে আয়োজিত ‘খোলা চিঠি লিখন প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কনফারেন্স রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সুফিয়া কামাল হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক সানজিদা আক্তার-এর সহযোগিতায় গত জানুয়ারি মাসে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সুফিয়া কামাল হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক সানজিদা আক্তারসহ ডাকসুর অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, ২০১১ সালের ফেলানী হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সচেতন হওয়ার পর এ ঘটনার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।তিনি বলেন, ফেলানীর মৃত্যুর পরও একজন নাগরিক হিসেবে তার বিচার পাওয়ার অধিকার ছিল। কিন্তু তার হত্যার বিচারের জন্য তৎকালীন সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। একই সঙ্গে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, সীমান্ত হত্যা কোনটি বা কোনটি নয়—এ নিয়ে বিতর্ক না করে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ফেলানীর প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ফেলানীর ঘটনাকে স্মরণে রাখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, ফেলানীর আত্মত্যাগ যেন মানুষ ভুলে না যায়, সে জন্য এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামের সঙ্গে ফেলানীর স্মৃতিকে যুক্ত রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ১১ বছর বয়সী ফেলানীকে সীমান্তে হত্যার পর তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা দেশের মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে। তার বক্তব্যে ঘটনাটিকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।তিনি বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন, সীমান্ত নদীগুলোর ন্যায্য হিস্যা এবং বিগত সময়ের বিভিন্ন চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সীমান্ত হত্যার মতো ঘটনায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।ফেলানী হত্যার বিচার প্রসঙ্গে মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েও প্রতিটি সীমান্ত হত্যার বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ফেলানীর হত্যার বিচার না হলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।ডাকসুর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে পর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ার পরও ব্যক্তিগত ও বেসরকারি সহযোগিতায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফেলানীকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ ও সাক্ষাৎকারভিত্তিক সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।সহ-আয়োজক সানজিদা আক্তার বলেন, কবি সুফিয়া কামাল হলের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ থেকেই বিভিন্ন মত ও অবস্থানের মানুষের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। আয়োজনটি অনেক আগে করা হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে পুরস্কার বিতরণী ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে।ফেলানীকে নিয়ে কাজ করার কারণ ব্যাখ্যা করে সানজিদা আক্তার বলেন, একটি শিশুর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা যেন প্রাণ না হারান—এমন একটি অবস্থান থেকেই তিনি এ আয়োজনে যুক্ত হয়েছেন।তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া লেখাগুলো নিয়ে একটি বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা প্রকাশের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বইটিতে তার একটি সহ-সম্পাদকীয় লেখাও থাকবে, যেখানে ফেলানীকে নিয়ে কাজ করার প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন