প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ইবিতে শিবিরের বিক্ষোভ
মোহাম্মদ সবুজ , কাম্প্যাস প্রতিনিধি ||
‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের সন্ধান ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রশিবির। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। পরে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেন তারা।এসময় শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী, সেক্রেটারি রাশিদুল ইসলাম রাফি, অফিস সম্পাদক আব্দুস সামাদ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি ইমরান বিশ্বাসসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ মিছিলে ‘আমার ভাই গুম কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘গুম হয়েছে আমার ভাই, খুনি তোদের রক্ষা নাই’, ‘গুমকারীদের কালো হাত, ভেঙে দাও ভেঙে দাও’, ‘ওলি ভাইয়ের সন্ধান, দিতে হবে দিতে হবে’, ‘১৪ বছর পেরিয়ে গেল, আর কত অপেক্ষা’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘এই বাংলায় হবে না, গুমকারীদের ঠিকানা’, ‘মুকাদ্দাস ভাই গুম কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খুনিদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই ফিরবে কবে, প্রশাসন বিচার চাই’ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন দলীয় স্লোগান দিতে দেখা যায়।শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অসংখ্য মানুষকে গুম করা হয়েছে। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুমের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৯০০টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি প্রমাণিত হয়েছে। এখনো ২৫১ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সরকারকে তাদের জীবিত-মৃত অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।তিনি আরও বলেন, “ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের জনপ্রিয়তার কারণে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্রলীগের মাধ্যমে তাদের গুম করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা এখনো ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আগের প্রশাসন তদন্ত কমিটি করলেও এর কার্যক্রম দেখা যায়নি। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে, না হলে ছাত্রশিবির কঠোর কর্মসূচি দেবে। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসের গুমের বিচার নিশ্চিত করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে তারা নিরপেক্ষ। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আল-ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস এবং তাঁর বন্ধু আল ফিকহ অ্যান্ড ‘ল’ বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ালীউল্লাহ কল্যাণপুর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। পরে রাত ১টার দিকে বাসটি সাভারের নবীনগরে পৌঁছালে র্যাব-৪-এর একটি কালো গাড়ি বাসটির গতিরোধ করে। র্যাবের পোশাক পরিহিত ৮-১০ জন ও সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি র্যাব ও ডিবি পরিচয়ে তাঁদের বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।এদিকে তাঁদের নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল হান্নান পদত্যাগ করায় তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এমনকি দীর্ঘ এক বছরেও কমিটি পুনর্গঠন করেনি।
সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন