প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু সহ ৬ দফা দাবিতে জাবিতে ছাত্র-শক্তির মানববন্ধন
মো: ইত্তেজা হোসাইন , কাম্প্যাস প্রতিনিধি ||
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। একই সঙ্গে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মোহাইমিনুল ইসলামের ওপর একাডেমিক নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন নেতারা।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কখনো শিক্ষকদের বিচার করতে চান না। বারবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও শিক্ষার্থীরা কার্যকর বিচার পান না। মোহাইমিনুলের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ চালু করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ডেমো ক্লাস এবং শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক গ্রহণের ব্যবস্থাও করতে হবে। ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে রেজিস্ট্রার ভবন অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, “একজন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছয় মাস ক্লাস করার পর জানতে পারছেন, তাঁকে চতুর্থ বর্ষের সব কোর্সের পরীক্ষা আবার দিতে হবে। এটি একাডেমিক ব্যবস্থার গুরুতর অসংগতি।” তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর শুধু তদন্ত কমিটি গঠন যথেষ্ট নয়; বরং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। একাডেমিক সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সংগঠনটির জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম নাজিম বলেন, “আমাদের সেমিস্টার পদ্ধতি চলছে, কিন্তু পরীক্ষা হচ্ছে ইয়ার সিস্টেমের মতো। সেমিস্টার পদ্ধতিতে পড়াশোনা করেও চার ঘণ্টায় ৭০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।”নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, টিউটোরিয়াল পরীক্ষার নম্বর সময়মতো না পাওয়া এবং পরীক্ষার নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।মানববন্ধনে উত্থাপিত ছয় দফা দাবি হলো—মোহাইমিনুল ইসলামের ঘটনায় একাডেমিক নিপীড়নের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার, একাডেমিক নিপীড়নবিরোধী সেল গঠন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, সব পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ, সব বিভাগে মানোন্নয়ন পরীক্ষা চালু এবং শিক্ষক নিয়োগে ডেমো ক্লাস ও শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক গ্রহণের ব্যবস্থা করা।মানববন্ধন শেষে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনটির নেতারা।
সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন