প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
অধিকার ত্যাগের শর্তে দ্বিতীয় বিয়ে কি জায়েজ?
ডেস্ক নিউজ ||
প্রশ্ন: আমি কি দ্বিতীয় বিয়ে এমন শর্তে করতে পারি যে, তুমি তোমার সমঅধিকার (সমতা-সংক্রান্ত অধিকার) ত্যাগ করবে? তবে ভরণ-পোষণ ও খরচের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কমতি করা হবে না; শুধু আমি দুই স্ত্রীর মধ্যে পূর্ণ সমতা রক্ষা করতে পারব না।
উত্তর: জেনে রাখা প্রয়োজন যে, কোনো ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে রাত যাপনের পালা বণ্টন এবং ব্যয় ও ভরণ-পোষণ প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব। প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী উভয়েই বৈবাহিক অধিকারের ক্ষেত্রে সমান মর্যাদার অধিকারী।
শরিয়তের দৃষ্টিতে সমতা রক্ষা বিশেষভাবে রাত যাপনের ক্ষেত্রে আবশ্যক; তবে সহবাসের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা শর্ত নয়।
এছাড়া বাসস্থানের ক্ষেত্রেও উভয় স্ত্রীর জন্য সমপর্যায়ের ও সমমানের ব্যবস্থা করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। প্রত্যেক স্ত্রীকে পৃথক কক্ষ প্রদান করতে হবে, যেখানে বসবাসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুবিধা—যেমন রান্নাঘর, গোসলখানা এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকবে।
অবকাশ বা ছুটির দিনগুলোর ক্ষেত্রেও ন্যায়সঙ্গত বণ্টন করা উচিত। যদি স্বামী এসব বিষয়ে কোনো এক স্ত্রীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেন, তবে তিনি জালিম হিসেবে গণ্য হবেন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে এজন্য জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন।
অতএব, স্ত্রীর অধিকার মওকুফ করিয়ে নেওয়ার শর্তে বিবাহ সম্পাদন করা সমীচীন নয়। তদুপরি, কোনো স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় তার কিছু অধিকার ত্যাগ করার পর পুনরায় সেগুলোর দাবি উত্থাপন করেন, তাহলে স্বামীর ওপর সেই অধিকারসমূহ পূরণ করা আবশ্যক হবে।
কারণ শরিয়ত স্ত্রীকে এ অধিকার প্রদান করেছে যে, তিনি পূর্বে মওকুফকৃত অধিকারের পুনরায় দাবি করতে পারেন।
সুতরাং, যদি আপনার দ্বিতীয় বিবাহের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকে এবং বিবাহের পর উভয় স্ত্রীর অধিকার যথাযথভাবে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ও সমতার ভিত্তিতে আদায় করতে সক্ষম হন, তবে আপনার জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করার অনুমতি রয়েছে।
পক্ষান্তরে, যদি আপনার পর্যাপ্ত আর্থিক বা শারীরিক সামর্থ্য না থাকে, অথবা আপনি আশঙ্কা করেন যে দ্বিতীয় বিবাহের পর স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত সমতা রক্ষা করতে পারবেন না, তাহলে আপনার জন্য দ্বিতীয় বিবাহ করা বৈধ বা জায়েজ হবে না।
পাকিস্তানের জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বিন্নোরি টাউনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফতোয়াটি অনুবাদ করেছেন- মুফতি নুরুযযামান নাহিদ
সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন