প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
কুবিতে 'ক্যাম্পাস ফুড সেফটি অ্যাওয়ারনেস' বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
প্রীতম কান্তি গোপ ||
কুবি প্রতিনিধি:কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত ও সেই সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'ক্যাম্পাস ফুড সেফটি অ্যাওয়ারনেস' বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সম্মেলন কক্ষে অধ্যাপক ড. এম. আমিনুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সঞ্চালনায় এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। কী-নোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোয়েব। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। সেমিনারে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা তাদের হলের খাবার সংক্রান্ত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি খাবারে ভিন্নতা ও মান নিশ্চিতের জন্য ভর্তুকি প্রদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারা।এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, 'মৌলিক চাহিদার প্রধান চাহিদাই খাদ্য। এটা নিশ্চিত না হলে বেঁচে থাকা সম্ভব না। আমরা যদি শিশু মৃত্যুহারের দিকে তাকাই তাহলে দেখি খাবারে বিভিন্ন কেমিক্যাল মেশানো ও অপরিচ্ছন্নতাই এর অন্যতম প্রধান দায়। উপাচার্য স্যারের স্টুডেন্ট ফার্স্ট নীতির বিভিন্ন বিষয়ের পরিক্রমার এই খাদ্য বিষয়ক যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তার মাধ্যমে একটা খাদ্য বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে।'প্রভোস্ট কমিটির আহ্বায়ক মো. হারুন বলেন, 'শিক্ষার্থীদের মেধা যখন বিকশিত হবে তখন শিক্ষার্থীরা ভালো পড়াশোনা করবে, ভালো গবেষণা করবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং ভালো হবে। আর এই মেধা বিকশিত হওয়ার পূর্বশর্ত খাবার। আর এই খাবারের মান বাড়ানোর জন্য উপাচার্য স্যারের কাছে অনুরোধ, যেভাবেই হোক ভর্তুকির ব্যবস্থা করা।'কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, 'উপাচার্য মহোদয় যখন শুরুতেই হলগুলো পরিদর্শনে যান, তখন তিনি খাবারের ব্যাপারে বেশ জোর দেন। আমরা একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে ফুড সেফটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে চাই। এর মাধ্যমে আমরা ডাইনিং, ক্যান্টিন এবং ক্যাম্পাসের খাবারের মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। নিরাপদ পানি পানের বিষয়টি ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। তবুও আমরা আরও যাচাই-বাছাই করব।'তিনি আরও বলেন, 'যারা খাবার বিক্রি করে তাদের একটা প্রশিক্ষণের ভেতরে নিয়ে আসতে হবে। কে কীভাবে খাবার দিচ্ছে সেগুলো নিয়মিত তদারকি করতে হবে। খাবারকে রেফ্রিজারেটরে রাখা। ইঁদুর, পোকা, ইত্যাদি থেকে খাবারকে যথাযথভাবে রক্ষা করা। একটা ফুড সেফটি কমিটি করা এবং নিয়মিত খাদ্য পরিদর্শন করা। আজকের এই সেমিনারের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো সমাধান করতে চাই।'অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, 'খাদ্য তখনই নিরাপদ হবে যখন ঐ খাদ্যে দূষণ বা ভেজাল থাকবে না। খাদ্য উপাদান থেকে আমাদের কাছে আসা পর্যন্ত যে শৃঙ্খল এটাকে বলে খাদ্য শৃঙ্খল। খাদ্যে হেভিমেটাল, পানি বা মাটি থেকে আমাদের ফুড চেইনে চলে আসে। অসাধু ব্যবসায়ীরা অনুমোদন ছাড়া বিষাক্ত দ্রব্য ব্যবহার করে খাদ্যে ভেজাল মেশায়।'তিনিই আরও বলেন, 'ফ্রিজে একাধিক খাবার উন্মুক্তভাবে রাখলে খাদ্যে ক্রস কন্টামিনেশন বা আন্তঃদূষণ হয়ে যায়। এটা যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। আমরা অন্যান্য রুম যেভাবে পরিষ্কার করি, সেভাবে কিচেন এবং বেসিন পরিষ্কার করা। বিভিন্ন রঙিন শরবত বা পাস্তুরীকরণ খাবারে ফুড গ্রেড কালার ব্যবহার হয়েছে কি-না এটা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।'উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করিম বলেন, 'আমরা নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছি। আমরা একটা টিম গঠন করব। যারা প্রতিনিয়ত, প্রতিটি সপ্তাহে ক্যান্টিন ভিজিট করবে। আমরা দেখব, এই ক্যান্টিনে কীভাবে খাবার পরিবেশন করা হয়, বছরে কতবার টিকটিকি পাওয়া যায়, ক্যান্টিনের মামারা কী ধরনের পোশাক পরিধান করছেন। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আমরা ক্যান্টিনগুলোকে তিনটা বা চারটা গ্রেডে ভাগ করব।'তিনি আরও বলেন, 'প্রশাসনে খাবার সরবরাহকারী, খাবার গ্রহীতা আছে এবং শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে আমরা কাজ করতে চাই। আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, খাবারটা যেভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে সেখানে যেন ন্যূনতম পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়। সব খাবারেই পুষ্টি আছে। তবে সেই পুষ্টি আমরা নষ্ট করি খাবার প্রক্রিয়াকরণ ও পরিবেশনে। এই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করে আমরা পুরো ক্যাম্পাসটাকে ফুড সেফটির আওতায় নিয়ে আসব। আমাদের শিক্ষার্থী যারা বাহিরে খায় সেগুলোও আমরা এর আওতায় নিয়ে আসব।'শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি বলেন, 'একটা স্টুডেন্ট সার্ভিস ইউনিট চালু করব। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কীভাবে মেসে রাখা হচ্ছে, সেগুলোও যাচাই-বাছাই করব। আমাদের হলের মেয়েরা অনেকেই শহরে টিউশন করায়। তাদের নিরাপত্তার জন্য হল প্রশাসনকে বলেছি, তারা যেখানে টিউশন করায়, সেখানকার ফোন নাম্বার যেন সংরক্ষণ করেন। এই ক্যাম্পাসকে পুরোপুরি শিক্ষার্থী বান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য।'সেমিনারের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. আমিনুল ইসলাম আকন্দ বলেন, 'আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যতটুকুই খাবে তারা যেন নিরাপদ খাবার খায়। আমরা চাই সবার সম্পৃক্ততা, একে অপরের দোষারোপ না। আমরা চেষ্টা করব হলগুলোতে খাবারের মান ভালো করার জন্য।'
সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন