ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে সন্তানেরা সবাই দূরদেশে। স্ত্রীও সেখানকারই কোনো এক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) একাকী মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ৬৫ বছর বয়সী আবদুর রহমানেরই যেন কেবল নিজ দেশে ফেরার তাড়া ছিল। তাই তো চট্টগ্রামে তাঁর শূন্য বাড়িটিতে নিঃসঙ্গ প্রহরীর জীবন যাপন করছিলেন। বিচ্ছিন্নতাকে সঙ্গী করে কবে, কখন মৃত্যু উপত্যকায় পাড়ি জমালেন, টের পেল না কেউই।

তিন ছেলে প্রবাসে, চন্দনাইশে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার



তিন ছেলে প্রবাসে, চন্দনাইশে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
চন্দনাইশের বাড়ি থেকে আবদুর রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

গতকাল সোমবার চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সন্ধ্যায় চন্দনাইশ থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে গাউসিয়া কমিটির চন্দনাইশ মানবিক টিমের প্রধান ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সোলাইমান ফারুকীর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবীরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুর রহমানের তিন ছেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রীও বর্তমানে বিদেশের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। একসময় আবদুর রহমানও ছেলেদের সঙ্গে বিদেশে ছিলেন। তবে প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে নগরপাড়ার বাড়িতে একাই বসবাস শুরু করেন। নিজের রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ নিজেই করতেন।

গাউসিয়া কমিটির মানবিক টিমের প্রধান মাওলানা সোলাইমান ফারুকী জানান, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খবর পান যে, নগরপাড়ার একটি ঘরে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশের অনুমতি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এশার নামাজের আগে স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আবদুর রহমানকে এলাকায় দেখা গিয়েছিল। এর পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক কারণে তিনি অনেকটাই সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন করছিলেন।

নিহত আবদুর রহমান সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া এলাকার মৃত কালা মিয়া সওদাগরের ছেলে।

চন্দনাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিটন মিয়া বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে গাউসিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

লিটন মিয়া জানান, এলাকাবাসীর তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার আবদুর রহমান সর্বশেষ তাঁর প্রবাসী ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গত শুক্রবার রাতে স্ট্রোক বা অন্য কোনো স্বাভাবিক কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিষয় : জেলার খবর মরদেহ উদ্ধার চন্দনাইশ চট্টগ্রাম বিভাগ ময়নাতদন্ত

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


তিন ছেলে প্রবাসে, চন্দনাইশে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

গতকাল সোমবার চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সন্ধ্যায় চন্দনাইশ থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে গাউসিয়া কমিটির চন্দনাইশ মানবিক টিমের প্রধান ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সোলাইমান ফারুকীর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবীরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুর রহমানের তিন ছেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রীও বর্তমানে বিদেশের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। একসময় আবদুর রহমানও ছেলেদের সঙ্গে বিদেশে ছিলেন। তবে প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে নগরপাড়ার বাড়িতে একাই বসবাস শুরু করেন। নিজের রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ নিজেই করতেন।

গাউসিয়া কমিটির মানবিক টিমের প্রধান মাওলানা সোলাইমান ফারুকী জানান, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খবর পান যে, নগরপাড়ার একটি ঘরে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশের অনুমতি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এশার নামাজের আগে স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আবদুর রহমানকে এলাকায় দেখা গিয়েছিল। এর পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক কারণে তিনি অনেকটাই সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন করছিলেন।

নিহত আবদুর রহমান সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া এলাকার মৃত কালা মিয়া সওদাগরের ছেলে।

চন্দনাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিটন মিয়া বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে গাউসিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

লিটন মিয়া জানান, এলাকাবাসীর তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার আবদুর রহমান সর্বশেষ তাঁর প্রবাসী ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গত শুক্রবার রাতে স্ট্রোক বা অন্য কোনো স্বাভাবিক কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
তিন ছেলে প্রবাসে, চন্দনাইশে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
0:00 0:00
1.0x