ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর চার দফা দাবির অগ্রগতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য তাজিনুর রহমান।
সোমবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত ডীনস কমিটির সভার পর দাবিগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে তারা উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে গত ৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সংরক্ষণে চার দফা দাবি উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন করেছিল ডাকসু। পরবর্তীতে দাবিগুলো ডীনস কমিটিতে পাঠানো হয়।
সাক্ষাতে চার দফা দাবির বিষয়ে নিম্নোক্ত অগ্রগতির কথা জানানো হয়—
বীরশ্রেষ্ঠ হল প্রতিষ্ঠা: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত নতুন হলগুলোর মধ্যে একটি হল বীরশ্রেষ্ঠদের স্মরণে নামকরণের বিষয়ে ডীনস কমিটির সদস্যরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। হলটির নাম কোনো নির্দিষ্ট বীরশ্রেষ্ঠের নামে হবে, নাকি সম্মিলিতভাবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হল’ হবে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় পাঠানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সংরক্ষণ: বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ভাস্কর্য সংস্কার, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে নতুন করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কেও সদস্য করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পাঠ্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অন্তর্ভুক্তি: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনসমূহকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হয়েছে। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজ নিজ পাঠ্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
১৫ জুলাইয়ের সহিংসতার বিচার: বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১৫ জুলাই সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) জানান, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী এখনো সাক্ষ্য দিতে অনিচ্ছুক। তবে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কিংবা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তথ্য ও অভিযোগ দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।