বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চার অনন্য স্রষ্টা কবি জীবনানন্দ দাশ, কবি আল মাহমুদ, লেখক ও অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ এবং কথাসাহিত্যিক রশীদ করীমকে নতুন প্রজন্মের সামনে আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে দিনব্যাপী সেমিনার সিরিজের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ‘সেমিনার সিরিজ ২০২৫-২০২৬’-এর উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে এসব মনীষীর অবদান শুধু ঐতিহাসিক নয়, সমকালীন চিন্তা ও মননের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনার সিরিজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। অধ্যাপক আজম বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা একাডেমি ধারাবাহিকভাবে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির গুণীজন স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জীবনানন্দ দাশ, আল মাহমুদ, মনিরউদ্দীন ইউসুফ ও রশীদ করীম বাংলা সাহিত্যকে বহুমাত্রিকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের সৃজনকর্ম নিয়ে নতুনভাবে ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। ড. সেলিম রেজা বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলা একাডেমি গুণীজন স্মরণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এবারের বিষয়ভিত্তিক সেমিনারগুলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কানিজ মওলা বলেন, দেশের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির পথিকৃৎ ব্যক্তিত্বদের স্মরণে বছরব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। উদ্বোধনী পর্বের পর সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় কবি আল মাহমুদ স্মরণসভা। ‘কবিতাহীন সময়ে কবির কাল’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও সম্পাদক রেজাউল করিম রনি। আলোচনায় অংশ নেন কবি ও সাংবাদিক সাজ্জাদ শরিফ।
দুপুর ১২টায় লেখক ও অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ স্মরণসভায় ‘বাংলার ফেরদৌসী মনিরউদ্দীন ইউসুফ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ড. হালিম দাদ খান। আলোচনায় অংশ নেন লেখক ও অনুবাদক জাভেদ হুসেন। সভাপতিত্ব করেন লেখক ও আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন। বেলা আড়াইটায় কবি জীবনানন্দ দাশ স্মরণসভায় ‘জীবনানন্দ ও অন্ধকার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও গবেষক কুমার চক্রবর্তী। আলোচনায় অংশ নেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. কুদরত-ই-হুদা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। দিনের শেষ পর্বে বিকেল ৪টায় কথাসাহিত্যিক রশীদ করীম স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘রশীদ করীমের উপন্যাস : মনস্তাত্ত্বিক আধুনিকতা, নাগরিক চেতনা ও মুসলিম মধ্যবিত্ত জীবনের শিল্পরূপ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মাসুদুল হক। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক হোসনে আরা। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক।