বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের একক বেঞ্চের দেওয়া নির্দেশনায় গুগল, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম), এক্স (সাবেক টুইটার) ও রেডিটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে টাবুর নাম ও ছবি ব্যবহার করে তৈরি ১৫০টির বেশি অননুমোদিত ও বিভ্রান্তিকর লিংক দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, টাবুর প্রকৃত নাম তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি, তাঁর মঞ্চনাম ‘টাবু’, স্থিরচিত্র, সিনেমার দৃশ্য, কণ্ঠস্বর ও স্বাক্ষর অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে এআই বা ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর চেহারা, কণ্ঠ কিংবা পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি বিকৃত কনটেন্টও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁর নাম বা ছবি ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া কোনো পণ্য বা মার্চেন্ডাইজ বিক্রির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইন্টারনেটে টাবুর সিনেমার দৃশ্য ও সাক্ষাৎকার এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদনা করে অশালীন ও বিকৃত কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি তাঁর নামে ভুয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খোলা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য মিথ্যা বুকিং দেওয়া এবং তাঁর নামে ভুয়া বক্তব্য প্রচারের ঘটনাও সামনে আসে।
এসব কর্মকাণ্ড তাঁর দীর্ঘদিনের তৈরি ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন টাবু। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে অননুমোদিত কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন তারকা ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন টাবুর এই আইনি পদক্ষেপকে ব্যক্তিগত পরিচয় ও প্রচার স্বত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।