ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা ঋতু পেলেন জিপিএ-৫, উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা



বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা ঋতু পেলেন জিপিএ-৫, উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইনসেটে ঋতু খাতুন

তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি।

ঋতু উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিল। সেদিন ভোররাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। মরদেহ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই।

অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেওয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর মরদেহ নেওয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর বেঁচে নেই। শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। সোমবার রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেঁচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছে সে।

স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাধা ঋতুর ফলাফলে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।

দিনমজুর বাবাহারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চশিক্ষা সহজ হবে।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতুর উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিষয় : পরীক্ষা এসএসসি যশোর

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা ঋতু পেলেন জিপিএ-৫, উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি।

ঋতু উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিল। সেদিন ভোররাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। মরদেহ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই।

অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেওয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর মরদেহ নেওয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর বেঁচে নেই। শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। সোমবার রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেঁচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছে সে।

স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাধা ঋতুর ফলাফলে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।

দিনমজুর বাবাহারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চশিক্ষা সহজ হবে।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতুর উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা ঋতু পেলেন জিপিএ-৫, উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা
0:00 0:00
1.0x