ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

দে‌বিদ্বারে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক



দে‌বিদ্বারে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
হাসিনা আক্তারের স্বজনের আহাজারি। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ও পারিবারিক কলহের জেরে হাসিনা আক্তার (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মোসলেহ উদ্দিনের (৪৫) বিরুদ্ধে। আজ সোমবার বিকেলে হত্যার অভিযোগে আটক মোসলেহ উদ্দিনকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামের দাইয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১১টায় লাশসহ অভিযুক্ত স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহত হাসিনা আক্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মৃত আবদুল খালেক ভূঁইয়ার মেয়ে। আটক মোসলেহ উদ্দিন সাইচাপাড়া গ্রামের মৃত রেনু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ সময় কুয়েতে প্রবাসজীবন কাটিয়ে ৬ মাস আগে দেশে ফেরেন। এই দম্পতির সাইমন হোসেন (১৯) ও খাদিজা আক্তার (১৬) নামের দুই সন্তান রয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মোসলেহ উদ্দিনের বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এর জেরে প্রায়ই হাসিনা আক্তারের ওপর নির্যাতন চালাতেন মোসলেহ উদ্দিন। ঘটনার দিন দুপুরেও হাসিনা আক্তারকে বেদম মারধর করেন মোসলেহ উদ্দিন। পরে বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মেয়ে খাদিজা ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খাদিজা তাঁর মাকে আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ঘরের আসবাবপত্রও এলোমেলো ছিল। পরে আশপাশের লোকজনকে ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হাসিনা আক্তারের ছেলে সায়মন হোসেন অভিযোগ করেন, এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে তাঁর মা প্রতিবাদ করলে তাঁকে প্রায়ই মারধর করা হতো।

অভিযুক্ত স্বামী মোসলেহ উদ্দিন দাবি করেন, ‘আমার মেয়ে বলেছে মুগুর দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছি, এটা ঠিক না। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমি স্ত্রীকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেই। এই মারধরে স্ত্রী মারা যেতে পারে না। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি আমি মেরেছি এমন প্রমাণিত হয়, যে শাস্তি আসে, আমি তা মাথা পেতে নেব।’ তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানান, পারিবারিক কলহে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের একপর্যায়ে স্বামী স্ত্রীকে মারধর করেন। নিহতের বাম চোখ, মুখ, ঠোঁট ও হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাহপরান বাদী হয়ে মোসলেহ উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিষয় : জেলার খবর কুমিল্লা আদালত গৃহবধূ চট্টগ্রাম বিভাগ দেবিদ্বার

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


দে‌বিদ্বারে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ও পারিবারিক কলহের জেরে হাসিনা আক্তার (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মোসলেহ উদ্দিনের (৪৫) বিরুদ্ধে। আজ সোমবার বিকেলে হত্যার অভিযোগে আটক মোসলেহ উদ্দিনকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামের দাইয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১১টায় লাশসহ অভিযুক্ত স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহত হাসিনা আক্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মৃত আবদুল খালেক ভূঁইয়ার মেয়ে। আটক মোসলেহ উদ্দিন সাইচাপাড়া গ্রামের মৃত রেনু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ সময় কুয়েতে প্রবাসজীবন কাটিয়ে ৬ মাস আগে দেশে ফেরেন। এই দম্পতির সাইমন হোসেন (১৯) ও খাদিজা আক্তার (১৬) নামের দুই সন্তান রয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মোসলেহ উদ্দিনের বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এর জেরে প্রায়ই হাসিনা আক্তারের ওপর নির্যাতন চালাতেন মোসলেহ উদ্দিন। ঘটনার দিন দুপুরেও হাসিনা আক্তারকে বেদম মারধর করেন মোসলেহ উদ্দিন। পরে বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মেয়ে খাদিজা ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে খাদিজা তাঁর মাকে আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ঘরের আসবাবপত্রও এলোমেলো ছিল। পরে আশপাশের লোকজনকে ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হাসিনা আক্তারের ছেলে সায়মন হোসেন অভিযোগ করেন, এক প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে তাঁর মা প্রতিবাদ করলে তাঁকে প্রায়ই মারধর করা হতো।

অভিযুক্ত স্বামী মোসলেহ উদ্দিন দাবি করেন, ‘আমার মেয়ে বলেছে মুগুর দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছি, এটা ঠিক না। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমি স্ত্রীকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেই। এই মারধরে স্ত্রী মারা যেতে পারে না। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি আমি মেরেছি এমন প্রমাণিত হয়, যে শাস্তি আসে, আমি তা মাথা পেতে নেব।’ তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানান, পারিবারিক কলহে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের একপর্যায়ে স্বামী স্ত্রীকে মারধর করেন। নিহতের বাম চোখ, মুখ, ঠোঁট ও হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাহপরান বাদী হয়ে মোসলেহ উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
দে‌বিদ্বারে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
0:00 0:00
1.0x