ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

শতভাগ ফেলের দায় সিসি ক্যামেরার ওপর চাপালেন শিক্ষক



শতভাগ ফেলের দায় সিসি ক্যামেরার ওপর চাপালেন শিক্ষক
কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতড়া ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৫৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ জন পাস করেছিল। এক বছরের ব্যবধানে এ বছর সেই বিদ্যালয়ের ১৮ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলাফল নেমে এসেছে শূন্যে।

বিদ্যালয়ের এমন চরম ফলাফল বিপর্যয় এবং শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ হিসেবে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, সিসি ক্যামেরার ভয়ে শিক্ষার্থীরা এমন ফল করেছে। আরও এক শিক্ষক দায় চাপালেন অভিভাবকদের অসচেতনতা ও সিসি ক্যামেরার ওপর।

বিদ্যালয়টির এমন ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কারণ, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে নয়জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। অথচ এত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ১৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। অর্থাৎ, গত বছর অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার একজনও পাস করতে পারেনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে কয়েকজন শিক্ষককে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় শ্রেণিকক্ষগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী ছিল।

প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, এবারের শিক্ষার্থীরা কিছুটা ভীতু ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকায় তারা ভয় পেয়েছে এবং এ কারণেই এমন ফল হয়েছে বলে তার দাবি।

আব্দুল খালেক বলেন, ‘এবার আমাদের বাচ্চারা একটু ভীতু ছিল। সিসি ক্যামেরা ছিল, ভয়ে শিক্ষার্থীরা এমন ফল করেছে। আশা রাখি, আগামী দিনে ভালো করবে।’

বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক মুশফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অসচেতন। তার ওপর সিসি ক্যামেরার ভয়ে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পরীক্ষা ভালো দিতে পারেনি। এটাই হচ্ছে মূলত তাদের ফেল করার কারণ। ইতিপূর্বে কোনো সমস্যা ছিল না। তারা সুন্দরভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পরীক্ষা দিয়েছে, পরীক্ষায় পাসও আছে।’

তবে বিদ্যালয়ের এমন ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রাও। স্থানীয় যুবক সবুজ মিয়া বলেন, ‘৯ জন শিক্ষক থাকার পরও ১৮ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস না করার কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কোথাও ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা চাই, কারও গাফিলতির কারণে বিদ্যালয়টি যেন ধ্বংস হয়ে না যায়।’

পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, ‘যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেনি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শোকজ করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত লিখে পাঠাব, যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’

বিষয় : সারাদেশ রংপুর এসএসসি

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


শতভাগ ফেলের দায় সিসি ক্যামেরার ওপর চাপালেন শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতড়া ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৫৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ জন পাস করেছিল। এক বছরের ব্যবধানে এ বছর সেই বিদ্যালয়ের ১৮ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলাফল নেমে এসেছে শূন্যে।

বিদ্যালয়ের এমন চরম ফলাফল বিপর্যয় এবং শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ হিসেবে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, সিসি ক্যামেরার ভয়ে শিক্ষার্থীরা এমন ফল করেছে। আরও এক শিক্ষক দায় চাপালেন অভিভাবকদের অসচেতনতা ও সিসি ক্যামেরার ওপর।

বিদ্যালয়টির এমন ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কারণ, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে নয়জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। অথচ এত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ১৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। অর্থাৎ, গত বছর অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার একজনও পাস করতে পারেনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে কয়েকজন শিক্ষককে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় শ্রেণিকক্ষগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী ছিল।

প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, এবারের শিক্ষার্থীরা কিছুটা ভীতু ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকায় তারা ভয় পেয়েছে এবং এ কারণেই এমন ফল হয়েছে বলে তার দাবি।

আব্দুল খালেক বলেন, ‘এবার আমাদের বাচ্চারা একটু ভীতু ছিল। সিসি ক্যামেরা ছিল, ভয়ে শিক্ষার্থীরা এমন ফল করেছে। আশা রাখি, আগামী দিনে ভালো করবে।’

বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক মুশফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অসচেতন। তার ওপর সিসি ক্যামেরার ভয়ে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পরীক্ষা ভালো দিতে পারেনি। এটাই হচ্ছে মূলত তাদের ফেল করার কারণ। ইতিপূর্বে কোনো সমস্যা ছিল না। তারা সুন্দরভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পরীক্ষা দিয়েছে, পরীক্ষায় পাসও আছে।’

তবে বিদ্যালয়ের এমন ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রাও। স্থানীয় যুবক সবুজ মিয়া বলেন, ‘৯ জন শিক্ষক থাকার পরও ১৮ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস না করার কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কোথাও ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা চাই, কারও গাফিলতির কারণে বিদ্যালয়টি যেন ধ্বংস হয়ে না যায়।’

পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, ‘যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেনি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শোকজ করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত লিখে পাঠাব, যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
শতভাগ ফেলের দায় সিসি ক্যামেরার ওপর চাপালেন শিক্ষক
0:00 0:00
1.0x