ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টা, স্বামী-স্ত্রী আটক



প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টা, স্বামী-স্ত্রী আটক
প্রতীকী ছবি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক দম্পতিকে আটক করেছেন হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে দম্পতির সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। 

আটকরা হলেন- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা গ্রামের মৃত ভোলা মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম সন্তান প্রসবের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। প্রসবের পর নবজাতককে কোলে নিয়ে প্রসূতি বিভাগের ভেতরে ঘোরাফেরা করছিলেন শিশুটির দাদি জয়গুন বেওয়া।

এ সময় পাশের একটি বেডে থাকা শেফালী বেগম শিশুটিকে কোলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সরল বিশ্বাসে দাদি শিশুটিকে তার কোলে তুলে দেন। কিছুক্ষণ শিশুটিকে আদর করার পর জয়গুন বেওয়া চিকিৎসকের কাছে যান। এ সুযোগে শেফালী শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তার স্বামী সিরাজুল ইসলামও তখন সঙ্গে ছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে শিশুটির দাদি চিৎকার শুরু করেন। পরে হাসপাতালের নিচে গিয়ে দেখতে পান, শেফালীসহ কয়েকজন শিশুটিকে নিয়ে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। চিৎকার শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে গিয়ে নবজাতকসহ শেফালী ও তার স্বামীকে আটক করেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।

হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী লাল মিয়া বলেন, চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকসহ ওই নারী ও তার স্বামীকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দম্পতি শিশু চুরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শেফালী বেগম প্রসূতি সেজে হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তার শরীরে বাঁধা অবস্থায় অতিরিক্ত কাপড় পাওয়া গেছে। ওই কাপড় দিয়ে পেট উঁচু করে প্রসূতি সাজা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘নবজাতকসহ আটক দুজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয় : পুলিশ গ্রেপ্তার গাইবান্ধা নবজাতক চুরি

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টা, স্বামী-স্ত্রী আটক

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক দম্পতিকে আটক করেছেন হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে দম্পতির সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। 

আটকরা হলেন- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা গ্রামের মৃত ভোলা মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম সন্তান প্রসবের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। প্রসবের পর নবজাতককে কোলে নিয়ে প্রসূতি বিভাগের ভেতরে ঘোরাফেরা করছিলেন শিশুটির দাদি জয়গুন বেওয়া।

এ সময় পাশের একটি বেডে থাকা শেফালী বেগম শিশুটিকে কোলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সরল বিশ্বাসে দাদি শিশুটিকে তার কোলে তুলে দেন। কিছুক্ষণ শিশুটিকে আদর করার পর জয়গুন বেওয়া চিকিৎসকের কাছে যান। এ সুযোগে শেফালী শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তার স্বামী সিরাজুল ইসলামও তখন সঙ্গে ছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে শিশুটির দাদি চিৎকার শুরু করেন। পরে হাসপাতালের নিচে গিয়ে দেখতে পান, শেফালীসহ কয়েকজন শিশুটিকে নিয়ে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। চিৎকার শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে গিয়ে নবজাতকসহ শেফালী ও তার স্বামীকে আটক করেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।

হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী লাল মিয়া বলেন, চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকসহ ওই নারী ও তার স্বামীকে আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দম্পতি শিশু চুরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শেফালী বেগম প্রসূতি সেজে হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তার শরীরে বাঁধা অবস্থায় অতিরিক্ত কাপড় পাওয়া গেছে। ওই কাপড় দিয়ে পেট উঁচু করে প্রসূতি সাজা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘নবজাতকসহ আটক দুজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টা, স্বামী-স্ত্রী আটক
0:00 0:00
1.0x