বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতির ওয়াই-ফাই ও দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা, অনলাইন মিটিংসহ বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়েও হলের ওয়াই-ফাইয়ের গতি অনেক কম থাকে। আবার সামান্য বৃষ্টিতেও অনেক সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সংযোগ পুনরুদ্ধার হতে কখনো কখনো কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে প্রয়োজনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারায় একাডেমিক ও দৈনন্দিন কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকলেও এর গতি ও স্থায়িত্ব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, কখনো কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে তা আবার কমে যায়। অনেক সময় পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে।
কৃষি অর্থনীতি অনুষদের শিক্ষার্থী সালামুন বলেন, “হলের ওয়াই-ফাইয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। কিছু সময় ভালো থাকে, আবার স্পিড কমে যায়। মাঝেমধ্যে একেবারেই ওয়াই-ফাই থাকে না। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর কারেন্ট আসার দুই-তিন ঘণ্টা পরও অনেক সময় ওয়াই-ফাই পাওয়া যায় না।”
কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী ওবাইদা বলেন, “ আমাদের ক্যাম্পাসে মোবাইল অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্কের অবস্থাও ভালো না। বিশেষ করে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক সিম ক্যাম্পাসে ঠিকমতো কাজ করে না। ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে না পারলে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করেও সমস্যার সমাধান হয় না।”
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, ইন্টারনেট সমস্যায় শিক্ষকদেরও নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনলাইন মিটিং ও অন্যান্য একাডেমিক কাজে পর্যাপ্ত গতি তো দূরের কথা, অনেক সময় স্থিতিশীল সংযোগও পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, “ইন্টারনেটের স্পিড অত্যন্ত নাজুক। আমরা অনেক সময় অনলাইনে মিটিং করি, সেটা কোনো ক্রমেই করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও খুবই দুর্বল, বিশেষ করে গ্রামীণফোনের। অনলাইনে কোনো কিছু করতে গেলে অভ্যন্তরীণ ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা সম্ভব হয় না, আবার গ্রামীণফোনে সুইচ করলেও একই অবস্থা। এই দুইটি বিষয় উন্নত করার জন্য আমাদের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।”
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী জানান, বাকৃবি বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (BdREN)-এর মাধ্যমে ইউজিসি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ডউইথ ৪ গিগাবাইট বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত অনেক রাউটার লো-কনফিগারেশনের হওয়ায় একটি কক্ষ থেকে কয়েকটি কক্ষ দূরে গেলে সিগন্যাল পাওয়া যায় না।
সার্ভার রুমের সমস্যা প্রসঙ্গে অধ্যাপক রোস্তম আলী বলেন, সম্প্রতি ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে সার্ভার রুমের একটি ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় ডিভাইসটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাকআপ দিতে পারছে না। বিশেষ করে মধ্যরাতে লোডশেডিং হলে এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
তিনি বলেন, “রাত ১২টা বা ১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। কখনো কখনো সকাল পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।”
সমস্যা সমাধানে ঢাকার সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এসে ডিভাইসটি পরীক্ষা করবে। প্রয়োজন হলে ডিভাইসটির ব্যাকআপ ব্যবস্থা উন্নত করা বা পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে।