ঢাকা    সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
The Campus Times online

‘অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিল কীভাবে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়’



‘অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিল কীভাবে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়’
অস্ট্রেলিয়াকে হেসেখেলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েই বাংলাদেশ করল বাজিমাত। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ডারউইনে সাড়ে তিন দিনে জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। অসাধারণ এই জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বে চলছে বাংলাদেশ বন্দনা। আকাশ চোপড়ার মতে দাপুটে এই জয়ে বাংলাদেশ নিজেদের অধিকার আদায় করে নিয়েছে।

সবশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার দুটি টেস্টের কোনোটিই পাঁচ দিনে গড়ায়নি। দুটিতেই ইনিংসে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছে পাঁচ দিনের আগেই। এবারের জয়ী দল বাংলাদেশ। ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৮৬ বলে জিতেছে শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজ-মুশফিকুর রহিমদের বাংলাদেশ। জেতার পথে হারিয়েছে কেবল এক উইকেট।

শান্ত-মুশফিকদের ২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলা তো দূরে থাক, ২০০৩ সালে কারোরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। তাঁরাই এবার অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ডেরায় ধরাশায়ী করেছে। গত রাতে নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে আকাশ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘কখনো কখনো নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়। কারণ, সব সময় অধিকার চেয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। এটা বাংলাদেশের গল্প।’

আকাশের মতে প্রায় ২ যুগ পর আমন্ত্রণ পেয়ে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে মাঠের পারফরম্যান্সে কীভাবে জবাব দিতে হয়। ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক এক্সে বলেন, ‘‘এখন অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বাংলাদেশ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই জায়গায় থাকার যোগ্য। তারা বলেছে, ‘২৩ বছর ধরে তোমরা আমাদের ডাকোনি। কিন্তু যখন ডেকেছ, তখন তোমাদের নিজেদের মাঠেই আমরা তোমাদের ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছি।’ এটাই বাস্তবতা।”

২০০৩ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত অ্যাশেজ, বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি নিয়মিতই হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে। ইংল্যান্ড, ভারতের মতো পরাশক্তির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া এই সময়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানকেও। নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা তো আছেই অস্ট্রেলিয়ার আমন্ত্রিতদের তালিকায়।

ডারউইনের মাঠে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের এই ঐতিহাসিক জয় আকাশ চোপড়ার কাছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার এক্সে বলেন, ‘২০০৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনেক টেস্ট হয়েছে। আর অস্ট্রেলিয়া এমন একটি দল, যারা এই সংস্করণকে অনেক গুরুত্ব দেয়। তারা গর্বের সঙ্গে দাবি করে যে তারাই টেস্ট ক্রিকেটকে টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেয়নি। তারা অনেক দেশকেই নিজেদের দেশে খেলতে আমন্ত্রণ জানায় না। তাই বাংলাদেশের এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

অস্ট্রেলিয়াকে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

বিষয় : খেলা ক্রিকেট বাংলাদেশ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

The Campus Times online

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


‘অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিল কীভাবে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়’

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েই বাংলাদেশ করল বাজিমাত। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ডারউইনে সাড়ে তিন দিনে জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। অসাধারণ এই জয়ের পর ক্রিকেট বিশ্বে চলছে বাংলাদেশ বন্দনা। আকাশ চোপড়ার মতে দাপুটে এই জয়ে বাংলাদেশ নিজেদের অধিকার আদায় করে নিয়েছে।

সবশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার দুটি টেস্টের কোনোটিই পাঁচ দিনে গড়ায়নি। দুটিতেই ইনিংসে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট শেষ হয়েছে পাঁচ দিনের আগেই। এবারের জয়ী দল বাংলাদেশ। ৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৮৬ বলে জিতেছে শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজ-মুশফিকুর রহিমদের বাংলাদেশ। জেতার পথে হারিয়েছে কেবল এক উইকেট।

শান্ত-মুশফিকদের ২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলা তো দূরে থাক, ২০০৩ সালে কারোরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। তাঁরাই এবার অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ডেরায় ধরাশায়ী করেছে। গত রাতে নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে আকাশ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘কখনো কখনো নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়। কারণ, সব সময় অধিকার চেয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। এটা বাংলাদেশের গল্প।’

আকাশের মতে প্রায় ২ যুগ পর আমন্ত্রণ পেয়ে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে মাঠের পারফরম্যান্সে কীভাবে জবাব দিতে হয়। ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক এক্সে বলেন, ‘‘এখন অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বাংলাদেশ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই জায়গায় থাকার যোগ্য। তারা বলেছে, ‘২৩ বছর ধরে তোমরা আমাদের ডাকোনি। কিন্তু যখন ডেকেছ, তখন তোমাদের নিজেদের মাঠেই আমরা তোমাদের ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছি।’ এটাই বাস্তবতা।”

২০০৩ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত অ্যাশেজ, বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি নিয়মিতই হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে। ইংল্যান্ড, ভারতের মতো পরাশক্তির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া এই সময়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানকেও। নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা তো আছেই অস্ট্রেলিয়ার আমন্ত্রিতদের তালিকায়।

ডারউইনের মাঠে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের এই ঐতিহাসিক জয় আকাশ চোপড়ার কাছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার এক্সে বলেন, ‘২০০৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনেক টেস্ট হয়েছে। আর অস্ট্রেলিয়া এমন একটি দল, যারা এই সংস্করণকে অনেক গুরুত্ব দেয়। তারা গর্বের সঙ্গে দাবি করে যে তারাই টেস্ট ক্রিকেটকে টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেয়নি। তারা অনেক দেশকেই নিজেদের দেশে খেলতে আমন্ত্রণ জানায় না। তাই বাংলাদেশের এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

অস্ট্রেলিয়াকে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
‘অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিল কীভাবে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়’
0:00 0:00
1.0x