ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
The Campus Times online

ফজলুল হক হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ ও ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর মানববন্ধন



ফজলুল হক হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ ও ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর মানববন্ধন

ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, প্রভোস্টের পদত্যাগ এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ের গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, আইন সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ ডাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধি। এছাড়া বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় তারা ‘১, ২, ৩, ৪—নিপীড়ক প্রভোস্ট গদি ছাড়’, ‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘বাহ ভিসি চমৎকার, নিপীড়কের পাহারাদার’, ‘নিপীড়কদের বাঁচাতে ছাত্রদল মরিয়া কেন?’—ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা যখন হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রভোস্টের কার্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলাম, তখন প্রশাসন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কালক্ষেপণ করেছে। রাত পার হয়ে গেলেও তারা ফুটেজ দেখানোর সৎ সাহস দেখাতে পারেনি। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের ভাই ইব্রাহীমকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তার অসুস্থ মাকে ফোন করে মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে এবং জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়া হয়েছে—তার প্রতিটি কথাই সঠিক।”

অভিযুক্ত প্রভোস্টকে বিগত সরকারের সময়কার ছাত্রলীগের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “হাসিনার আমলে প্রশাসন যেভাবে ছাত্রলীগকে সহযোগিতা করে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি কায়েম করেছিল, আমরা দেখতে পাচ্ছি এই নির্যাতক প্রভোস্ট মামুনও তেমনিভাবে সিঙ্গেল গেস্টরুম বানিয়ে শিক্ষার্থীদের টর্চার করছেন। বুয়েটে আবরার ফাহাদকে যেভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও সেই দিন আসতে বেশি দেরি নেই।”

অবিলম্বে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়ে উপাচার্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এই নির্যাতক প্রভোস্ট মামুনকে পদচ্যুত করে বিচার নিশ্চিত করা না হবে এবং তাকে সহায়তাকারী স্টাফদের বিচারের মুখোমুখি করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ডাকসু ও হলের শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরবে না। আমরা ভিসি স্যারকে আহ্বান জানাই, আপনি গণরুম-গেস্টরুমবিরোধী আপনার অতীত অবস্থান বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে অতি দ্রুত এর সমাধান করবেন।”

মানববন্ধনে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “আবরার ফাহাদকে হত্যার পর ফ্যাসিবাদী সময়ে হল প্রশাসন যেভাবে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করেছিল, আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর ওপর নিপীড়নের পরও আমরা একই চিত্র দেখতে পাচ্ছি। হলের প্রভোস্ট, প্রক্টরিয়াল টিম এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে যৌক্তিক আন্দোলন করছিলাম, তখন বিগত হাসিনা আমলের মতো প্রক্টররা আমাদের হুমকি দিয়েছেন। এরপর ওই প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধনে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়। এতে হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আবু নাঈম ও জিএস ইমামের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। জিএস এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন।”

উল্লেখ্য, হলের সংকট নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে হলের কক্ষ তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

এ সময় একপর্যায়ে প্রভোস্টকে উদ্ধারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


ফজলুল হক হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ ও ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, প্রভোস্টের পদত্যাগ এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রতিনিধিরা।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ের গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।


মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, আইন সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ ডাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধি। এছাড়া বিভিন্ন হলের প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।


এ সময় তারা ‘১, ২, ৩, ৪—নিপীড়ক প্রভোস্ট গদি ছাড়’, ‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘বাহ ভিসি চমৎকার, নিপীড়কের পাহারাদার’, ‘নিপীড়কদের বাঁচাতে ছাত্রদল মরিয়া কেন?’—ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।


মানববন্ধনে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা যখন হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রভোস্টের কার্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলাম, তখন প্রশাসন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কালক্ষেপণ করেছে। রাত পার হয়ে গেলেও তারা ফুটেজ দেখানোর সৎ সাহস দেখাতে পারেনি। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের ভাই ইব্রাহীমকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তার অসুস্থ মাকে ফোন করে মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে এবং জোরপূর্বক মুচলেকা নেওয়া হয়েছে—তার প্রতিটি কথাই সঠিক।”


অভিযুক্ত প্রভোস্টকে বিগত সরকারের সময়কার ছাত্রলীগের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “হাসিনার আমলে প্রশাসন যেভাবে ছাত্রলীগকে সহযোগিতা করে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি কায়েম করেছিল, আমরা দেখতে পাচ্ছি এই নির্যাতক প্রভোস্ট মামুনও তেমনিভাবে সিঙ্গেল গেস্টরুম বানিয়ে শিক্ষার্থীদের টর্চার করছেন। বুয়েটে আবরার ফাহাদকে যেভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও সেই দিন আসতে বেশি দেরি নেই।”


অবিলম্বে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়ে উপাচার্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত এই নির্যাতক প্রভোস্ট মামুনকে পদচ্যুত করে বিচার নিশ্চিত করা না হবে এবং তাকে সহায়তাকারী স্টাফদের বিচারের মুখোমুখি করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ডাকসু ও হলের শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরবে না। আমরা ভিসি স্যারকে আহ্বান জানাই, আপনি গণরুম-গেস্টরুমবিরোধী আপনার অতীত অবস্থান বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে অতি দ্রুত এর সমাধান করবেন।”


মানববন্ধনে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “আবরার ফাহাদকে হত্যার পর ফ্যাসিবাদী সময়ে হল প্রশাসন যেভাবে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করেছিল, আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর ওপর নিপীড়নের পরও আমরা একই চিত্র দেখতে পাচ্ছি। হলের প্রভোস্ট, প্রক্টরিয়াল টিম এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে যৌক্তিক আন্দোলন করছিলাম, তখন বিগত হাসিনা আমলের মতো প্রক্টররা আমাদের হুমকি দিয়েছেন। এরপর ওই প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধনে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়। এতে হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আবু নাঈম ও জিএস ইমামের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। জিএস এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন।”


উল্লেখ্য, হলের সংকট নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে হলের কক্ষ তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।


এ সময় একপর্যায়ে প্রভোস্টকে উদ্ধারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
ফজলুল হক হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ ও ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ডাকসুর মানববন্ধন
0:00 0:00
1.0x