ঢাকা    শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
The Campus Times online

তিন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করল ডাকসু



তিন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করল ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত শহীদ স্মারক বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬, ‘১৯০৫: ইশারাত মঞ্জিল ও বঙ্গভঙ্গের আলোয়’ ইতিহাস লিখন প্রতিযোগিতা এবং ‘Beyond the Battlefield: Women in the Liberation War’ প্রবন্ধ লিখন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ডাকসু কনফারেন্স রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও এতে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান স্মরণে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বঙ্গভঙ্গের ইতিহাসকে মুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করে ইশারাত মঞ্জিলে ইতিহাস শিক্ষণের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা সেখানে বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে ইতিহাস বিশ্লেষণের সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রচলিত আলোচনার বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী ভূমিকা তুলে ধরতে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এসব প্রবন্ধ ভবিষ্যতে প্রকাশনা আকারে প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জুমা আরও বলেন, ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শহীদদের স্মরণে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের শহীদদের আলাদাভাবে না দেখে সব শহীদকে একীভূতভাবে ধারণ করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিভাজনমূলক রাজনৈতিক বয়ান তৈরির পরিবর্তে দুই সময়ের ইতিহাসকে একই সূত্রে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমান ডাকসু মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে আগের যেকোনো ডাকসু কমিটির তুলনায় বেশি কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় একটি মানসম্মত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত জিমনেসিয়াম দ্রুত চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরের হলগুলোর ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে আসিফ বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও ডাকসুর ভিপি ঘটনার ফুটেজ দেখেছেন। শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এবং ডাকসুও এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও নারী নেত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছাত্রদল যদি ছাত্রলীগের মতো সন্ত্রাস ও দখলের রাজনীতি অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের পরিণতিও ছাত্রলীগের মতো হতে পারে। একইসঙ্গে সুস্থ ও শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। বিভিন্ন জরিপের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, প্রায় ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের অধীনে ক্যাম্পাস আগের তুলনায় নিরাপদ এবং পড়াশোনার পরিবেশও উন্নত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ডাকসুর জন্য নেওয়া অর্থ এখনো ডাকসুকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারের বিরুদ্ধেও ডাকসুর পূর্ণাঙ্গ হিসাব না দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়ে বর্তমান নেতৃত্ব নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৩১ কোটি টাকার বাজেটে ডাকসুর জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় আশঙ্কা প্রকাশ করে সাদিক কায়েম বলেন, এটি ভবিষ্যতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের কোনো পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ তুলে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানান তিনি।

ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও শোডাউনের রাজনীতি ফিরে আসার অভিযোগ তুলে শাহবাগ থানায় সাংবাদিক ও ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থী ও তাঁর অসুস্থ মাকে নির্যাতনের অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টের বিচার দাবি করেন।

ডাকসুর গত ১১ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, আবাসন, পরিবহন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প সম্পন্ন হলেও প্রশাসনের কারণে সেটি উদ্বোধন করা যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ আনা হলেও প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও এর শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। শহীদ উসমান হাদির আত্মত্যাগ স্মরণ করে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহ ও নবাব আলী চৌধুরীসহ ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানের দাবি তুলে ধরা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে কনফারেন্স আয়োজন ও জার্নাল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে ক্যাম্পাসে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং সংগ্রহশালায় তথ্য সংরক্ষণের কাজ চলছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর ক্যারিয়ারবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও সদস্য তাজিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

The Campus Times online

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


তিন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করল ডাকসু

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত শহীদ স্মারক বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬, ‘১৯০৫: ইশারাত মঞ্জিল ও বঙ্গভঙ্গের আলোয়’ ইতিহাস লিখন প্রতিযোগিতা এবং ‘Beyond the Battlefield: Women in the Liberation War’ প্রবন্ধ লিখন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ডাকসু কনফারেন্স রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও এতে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান স্মরণে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বঙ্গভঙ্গের ইতিহাসকে মুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করে ইশারাত মঞ্জিলে ইতিহাস শিক্ষণের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা সেখানে বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে ইতিহাস বিশ্লেষণের সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রচলিত আলোচনার বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সাহসী ভূমিকা তুলে ধরতে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এসব প্রবন্ধ ভবিষ্যতে প্রকাশনা আকারে প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জুমা আরও বলেন, ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শহীদদের স্মরণে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো সময়ের শহীদদের আলাদাভাবে না দেখে সব শহীদকে একীভূতভাবে ধারণ করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বিভাজনমূলক রাজনৈতিক বয়ান তৈরির পরিবর্তে দুই সময়ের ইতিহাসকে একই সূত্রে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমান ডাকসু মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে আগের যেকোনো ডাকসু কমিটির তুলনায় বেশি কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় একটি মানসম্মত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত জিমনেসিয়াম দ্রুত চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরের হলগুলোর ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে আসিফ বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও ডাকসুর ভিপি ঘটনার ফুটেজ দেখেছেন। শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এবং ডাকসুও এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও নারী নেত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ছাত্রদল যদি ছাত্রলীগের মতো সন্ত্রাস ও দখলের রাজনীতি অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের পরিণতিও ছাত্রলীগের মতো হতে পারে। একইসঙ্গে সুস্থ ও শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। বিভিন্ন জরিপের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, প্রায় ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের অধীনে ক্যাম্পাস আগের তুলনায় নিরাপদ এবং পড়াশোনার পরিবেশও উন্নত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলে সাদিক কায়েম বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ডাকসুর জন্য নেওয়া অর্থ এখনো ডাকসুকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারের বিরুদ্ধেও ডাকসুর পূর্ণাঙ্গ হিসাব না দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়ে বর্তমান নেতৃত্ব নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৩১ কোটি টাকার বাজেটে ডাকসুর জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় আশঙ্কা প্রকাশ করে সাদিক কায়েম বলেন, এটি ভবিষ্যতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের কোনো পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ তুলে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানান তিনি।

ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও শোডাউনের রাজনীতি ফিরে আসার অভিযোগ তুলে শাহবাগ থানায় সাংবাদিক ও ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থী ও তাঁর অসুস্থ মাকে নির্যাতনের অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টের বিচার দাবি করেন।

ডাকসুর গত ১১ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, আবাসন, পরিবহন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প সম্পন্ন হলেও প্রশাসনের কারণে সেটি উদ্বোধন করা যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ আনা হলেও প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও এর শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। শহীদ উসমান হাদির আত্মত্যাগ স্মরণ করে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহ ও নবাব আলী চৌধুরীসহ ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানের দাবি তুলে ধরা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে কনফারেন্স আয়োজন ও জার্নাল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে ক্যাম্পাসে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং সংগ্রহশালায় তথ্য সংরক্ষণের কাজ চলছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর ক্যারিয়ারবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও সদস্য তাজিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্য শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
তিন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করল ডাকসু
0:00 0:00
1.0x