ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রথম বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবারের এ বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, শিক্ষার্থী ও সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং আবাসিক হলগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই উপ-উপাচার্য, প্রক্টর এবং বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে উপাচার্য জানান, ডাকসু নির্বাচন কীভাবে আয়োজন করা হবে, এর জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন কারা—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সক্রিয় ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি শৃঙ্খলা পরিষদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি আবাসিক হলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনকে প্রতিবেদন দিতে প্রভোস্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রভোস্টরা নিজ নিজ হলে সভা করে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করবেন। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও বৈঠক করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ওই সাক্ষাতেও ডাকসু নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী নেতৃত্বের বিষয়েও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপাচার্য।
তবে ডাকসু নির্বাচনের নির্দিষ্ট তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। উপাচার্য বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং নির্বাচনের তফসিল এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ডাকসুর সংবিধানের ৬(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচিত পদাধিকারীরা ৩৬৫ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে নির্বাচিত পদাধিকারীরা সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন অথবা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত—যেটি আগে ঘটে—দায়িত্বে থাকতে পারবেন। এরপর ডাকসু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।
বর্তমান ডাকসু কমিটি গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে হিসাবে তাদের এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। নির্বাচন তফসিল চূড়ান্ত না হলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়তে পারে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে উপাচার্য জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করাও সাক্ষাতের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে সমাবর্তনে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়েও সাক্ষাতে আলোচনা হয়েছে।