ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের মেইন ক্যান্টিনের এক কর্মীর বিরুদ্ধে মায়ের মৃত্যুর কথা বলে হলের বিকাশের দোকান থেকে ১৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে হল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে স্টাফরা আটক করেন। আটক ওই কর্মীর বিরুদ্ধে আগে ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলায় জড়িত থাকার দাবিও করেছেন হলসংশ্লিষ্টরা। তবে এসব মামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
হলসংশ্লিষ্টদের দাবি, মামুন নামের ওই ক্যান্টিনকর্মী তার মায়ের মৃত্যুর কথা জানিয়ে বিকাশের দোকান থেকে ১৪ হাজার টাকা নেন। টাকা নেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর হল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্টাফরা তাকে আটক করেন।
আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, মামুনের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি একটি ধর্ষণ মামলায় প্রায় ২৫ দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বের হয়ে তিনি জহুরুল হক হলের মেইন ক্যান্টিনে আশ্রয় নেন বলেও দাবি করেছেন তারা।
পরে ক্যান্টিন মালিকের উপস্থিতিতে মামুনকে হল প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, গুরুতর ফৌজদারি মামলায় আসামি হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের মেইন ক্যান্টিনে কাজের সুযোগ পেলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হলসংশ্লিষ্টদের দাবি, ক্যান্টিনকর্মী নিয়োগের আগে তার পরিচয় ও পূর্ববর্তী মামলার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ক্যান্টিন মালিকের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন হলসংশ্লিষ্টরা।
হলসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিচয় ও পটভূমি যাচাই না করে নিয়োগ দেওয়া হলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ক্যান্টিনকর্মীসহ হলের বিভিন্ন সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচয়, পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড এবং কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে কি না—এসব তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে মামুনের বিরুদ্ধে থাকা ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলার অভিযোগ এবং এসব মামলার বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা আদালতের নথি থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।