ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তরুণদের সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অ্যান্টিক্যান্সার ফল এবং গাছের চারা বিতরণ ক্যাম্পেইন করেছে ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ট্রাস্ট বাংলাদেশ (সিসিআরটিবি) ইবি শাখা। রোববার (২৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় দিনব্যাপী এ আয়োজন করে সংগঠনটি।
জানা যায়, বিশ্বব্যাপী খাদ্যনালির ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এসফোজেল ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস মান্থ পালন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিন সংগঠনটি কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে আমড়া, শসা, আমলকী, পেয়ারা, কলা, আনারস ও পেঁপেসহ বিভিন্ন ফল বিতরণ করা হচ্ছে। এর পূর্বে শিক্ষার্থীদের ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ করে যে কোনো একটি ফল জয় লাভ করতে হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্যান্সার সচেতনতা মূলত লিফলেট বিতরণ করেছে। এছাড়াও সংগঠনটি নতুন সদস্যদের মাঝে একটি করে পেয়ারা গাছের চারা বিতরণ করেন।
সিসিআরটিবির সদস্যরা জানান, ফল সরাসরি ক্যান্সার নিরাময় না করলেও এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও ফাইবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে। আমরা এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। এছাড়াও আজকে আমাদের সংগঠনের নতুন সদস্যদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করতে প্রত্যেক সদস্যকে গাছের চারা বিতরণ করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাওহিদ ইসলাম বলেন, সিসিআরটিবির এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। অনেক ভালো কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এখানে এসে আমি এন্টিক্যান্সার ফল গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এছাড়াও এখানে ক্যান্সার বিষয়ক সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করেছে যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এ সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।
সংগঠনটির ইবি শাখার সভাপতি সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২ কোটি মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশেও প্রতিবছর প্রায় দেড় লক্ষাধিক নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ উদ্দেশ্যেই আমাদের আজকের এই কার্যক্রম। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্যান্সার প্রতিরোধে জন্য তাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন করতে পারি।