ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
The Campus Times online

সুদের টাকা ও মামলাকে কেন্দ্র করে জাবি শিক্ষার্থীর মাকে কর্মচারীদের হয়রানি অভিযোগ



সুদের টাকা ও মামলাকে কেন্দ্র করে জাবি শিক্ষার্থীর মাকে কর্মচারীদের হয়রানি অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থী তাঁর মায়ের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুদের ব্যবসা, চেকের অপব্যবহার এবং আইনি হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রতিকার চাইতে গিয়ে কর্মচারী সমিতি ও ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়া, ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)  সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দর্শন বিভাগ ৫১ ব্যাচের শারমিন পূর্নিমা। 

 

সংবাদ সম্মেলনে পূর্নিমা বলেন, 'আমার মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একজন কর্মচারী। ২০১৭ সালে তিনি প্রীতিলতা হলের মালী আফাজউদ্দিনের কাছ থেকে মাসিক লাভাংশ দেওয়ার শর্তে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা হয় এবং এর বিপরীতে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প রাখা হয়। ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত লাভাংশ দেওয়ার পর ২০২২ সালের অক্টোবরে মূল ২ লাখ টাকাও পরিশোধ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দাবি নিয়ে বিরোধের এক সপ্তাহের মধ্যেই গচ্ছিত ফাঁকা চেক ব্যবহার করে আমার মায়ের বিরুদ্ধে ৪ লাখ টাকার চেক ডিসঅনার মামলা করা হয়, যার কারণে তাকে জেলও খাটতে হয়েছে।'

'এই ঘটনার পর আমার মা ন্যায়বিচারের আশায় এবং মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তির জন্য আমি জাকসু, কর্মচারী ইউনিয়ন, কর্মচারী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাইনি' বলে হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, 'অভিযুক্ত আফাজউদ্দিন বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছেন। বিচার চাওয়ার কারণে আমাকে ও আমার মাকেও নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি আমাকে বলা হয়েছে, ‘রাতে দেখা করো, সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ 

আমরা মনে করি, একজন শিক্ষার্থী ও তার পরিবার বিচার চাইতে গিয়ে এ ধরনের অপমান ও হয়রানির শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এসময় পূর্নিমা অভিযোগ করেন, 'আফাজ ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে সুদের কারবারে অনেকে ভুক্তভোগী হয়েছেন বলেও আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের জানানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রেও আমাকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।'

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা জুলাই জাগরণী হলে কাজ করা রাবেয়া আক্তার বলেন, 'আমার সাথে ঘটা অবিচারের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। '

#.....

The Campus Times online

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুদের টাকা ও মামলাকে কেন্দ্র করে জাবি শিক্ষার্থীর মাকে কর্মচারীদের হয়রানি অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাবি প্রতিনিধি


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থী তাঁর মায়ের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুদের ব্যবসা, চেকের অপব্যবহার এবং আইনি হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রতিকার চাইতে গিয়ে কর্মচারী সমিতি ও ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়া, ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।


মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)  সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দর্শন বিভাগ ৫১ ব্যাচের শারমিন পূর্নিমা। 

 

সংবাদ সম্মেলনে পূর্নিমা বলেন, 'আমার মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একজন কর্মচারী। ২০১৭ সালে তিনি প্রীতিলতা হলের মালী আফাজউদ্দিনের কাছ থেকে মাসিক লাভাংশ দেওয়ার শর্তে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা হয় এবং এর বিপরীতে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প রাখা হয়। ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত লাভাংশ দেওয়ার পর ২০২২ সালের অক্টোবরে মূল ২ লাখ টাকাও পরিশোধ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দাবি নিয়ে বিরোধের এক সপ্তাহের মধ্যেই গচ্ছিত ফাঁকা চেক ব্যবহার করে আমার মায়ের বিরুদ্ধে ৪ লাখ টাকার চেক ডিসঅনার মামলা করা হয়, যার কারণে তাকে জেলও খাটতে হয়েছে।'


'এই ঘটনার পর আমার মা ন্যায়বিচারের আশায় এবং মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তির জন্য আমি জাকসু, কর্মচারী ইউনিয়ন, কর্মচারী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাইনি' বলে হতাশা প্রকাশ করেন।


তিনি আরও বলেন, 'অভিযুক্ত আফাজউদ্দিন বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছেন। বিচার চাওয়ার কারণে আমাকে ও আমার মাকেও নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি আমাকে বলা হয়েছে, ‘রাতে দেখা করো, সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ 


আমরা মনে করি, একজন শিক্ষার্থী ও তার পরিবার বিচার চাইতে গিয়ে এ ধরনের অপমান ও হয়রানির শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


এসময় পূর্নিমা অভিযোগ করেন, 'আফাজ ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে সুদের কারবারে অনেকে ভুক্তভোগী হয়েছেন বলেও আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের জানানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রেও আমাকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।'



সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা জুলাই জাগরণী হলে কাজ করা রাবেয়া আক্তার বলেন, 'আমার সাথে ঘটা অবিচারের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। '




#.....



The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
সুদের টাকা ও মামলাকে কেন্দ্র করে জাবি শিক্ষার্থীর মাকে কর্মচারীদের হয়রানি অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x