ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
The Campus Times online

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কড়ৈতলীর ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি



ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কড়ৈতলীর ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি
কড়ৈতলী জমিদারবাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী গ্রামের ঐতিহাসিক জমিদারবাড়িটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেই জমিদার, নেই জমিদারি—রয়ে গেছে শুধু অতীত ঐতিহ্যের নিঃশব্দ স্মারক। বাংলা প্রবাদের ‘সেই রাম নেই, নেই রাজত্ব’ বাণীটি যেন পুরোপুরি মিলে গেছে এই বাড়ির সঙ্গে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ‘বাবুর বাড়ি’ নামে পরিচিত এই জমিদারবাড়িকে ঘিরে রয়েছে কয়েক শ বছরের ইতিহাস। চাঁদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে সবুজে ঘেরা কড়ৈতলী গ্রামে এর অবস্থান। জানা যায়, ১২২০ সালে হরিশচন্দ্র বসুর হাত ধরে কড়ৈতলীতে জমিদার বংশের সূচনা ঘটে। ১৯৫১ সালে শেষ জমিদার গোবিন্দচন্দ্র বসুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই রাজবংশের সমাপ্তি ঘটে।

একসময় প্রায় ৩০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই জমিদারবাড়ির অস্তিত্ব এখন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অল্প জায়গায়। ধ্বংসাবশেষ ছাড়া প্রায় সবকিছু বেদখল হয়ে গেছে। নেই জমিদারদের হাতি-ঘোড়া কিংবা পাইক-পেয়াদা। কেবল দাঁড়িয়ে আছে দুর্গামন্দির, লতাপাতায় আচ্ছাদিত জরাজীর্ণ প্রাসাদ, ভগ্ন আট্টালিকা, ঐতিহ্যবাহী কাছারিঘর এবং রহস্যঘেরা সুড়ঙ্গপথ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বিলুপ্তির পথে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম, তোফাজ্জাল হোসেন, আলমগীর হোসেনসহ অনেকে জানান, একসময় এই জমিদারবাড়ির ব্যাপক সম্পত্তি ছিল। এখন ধ্বংসাবশেষ ছাড়া সবকিছু দখল হয়ে গেছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে এখানে দিনের বেলায়ও মাদকের আড্ডা বসে। একসময় বহু ভ্রমণপিয়াসী এখানে এলেও মাদক কারবারিদের কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা এখন কমে গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের উদ্যোগে জমিদারবাড়িটি সংরক্ষণ করা হলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে, পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মাদকের বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। জমিদারবাড়ির আশপাশেও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।’

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘বেদখলের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে এবং ফরিদগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয় : জেলার খবর চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ চট্টগ্রাম বিভাগ

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কড়ৈতলীর ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী গ্রামের ঐতিহাসিক জমিদারবাড়িটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেই জমিদার, নেই জমিদারি—রয়ে গেছে শুধু অতীত ঐতিহ্যের নিঃশব্দ স্মারক। বাংলা প্রবাদের ‘সেই রাম নেই, নেই রাজত্ব’ বাণীটি যেন পুরোপুরি মিলে গেছে এই বাড়ির সঙ্গে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ‘বাবুর বাড়ি’ নামে পরিচিত এই জমিদারবাড়িকে ঘিরে রয়েছে কয়েক শ বছরের ইতিহাস। চাঁদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে সবুজে ঘেরা কড়ৈতলী গ্রামে এর অবস্থান। জানা যায়, ১২২০ সালে হরিশচন্দ্র বসুর হাত ধরে কড়ৈতলীতে জমিদার বংশের সূচনা ঘটে। ১৯৫১ সালে শেষ জমিদার গোবিন্দচন্দ্র বসুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই রাজবংশের সমাপ্তি ঘটে।

একসময় প্রায় ৩০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই জমিদারবাড়ির অস্তিত্ব এখন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অল্প জায়গায়। ধ্বংসাবশেষ ছাড়া প্রায় সবকিছু বেদখল হয়ে গেছে। নেই জমিদারদের হাতি-ঘোড়া কিংবা পাইক-পেয়াদা। কেবল দাঁড়িয়ে আছে দুর্গামন্দির, লতাপাতায় আচ্ছাদিত জরাজীর্ণ প্রাসাদ, ভগ্ন আট্টালিকা, ঐতিহ্যবাহী কাছারিঘর এবং রহস্যঘেরা সুড়ঙ্গপথ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বিলুপ্তির পথে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম, তোফাজ্জাল হোসেন, আলমগীর হোসেনসহ অনেকে জানান, একসময় এই জমিদারবাড়ির ব্যাপক সম্পত্তি ছিল। এখন ধ্বংসাবশেষ ছাড়া সবকিছু দখল হয়ে গেছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে এখানে দিনের বেলায়ও মাদকের আড্ডা বসে। একসময় বহু ভ্রমণপিয়াসী এখানে এলেও মাদক কারবারিদের কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা এখন কমে গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের উদ্যোগে জমিদারবাড়িটি সংরক্ষণ করা হলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে, পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মাদকের বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। জমিদারবাড়ির আশপাশেও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।’

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘বেদখলের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে এবং ফরিদগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কড়ৈতলীর ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি
0:00 0:00
1.0x