কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। চুক্তিতে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দুই দেশই ‘প্রত্যেক রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণভাবে অস্তিত্ব থাকার অধিকার’ স্বীকার করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
হিজবুল্লাহ সোমবার বলেছে, ইসরায়েলি হামলাগুলো এখন পর্যন্ত তাদের মেনে চলা যুদ্ধবিরতির ‘নির্লজ্জ’ লঙ্ঘন। এ ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনার ওপর তার নিবিড় নজর রাখছে আর ‘নিজ মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষা করার’ অধিকার তার সংরক্ষণ করে।
হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসিম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া নিরাপত্তা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এই চুক্তিকে ‘ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। হিজবুল্লাহ তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে বলে প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েল যুদ্ধবিমান দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ শহর এবং পাশের মায়ফাদুন শহরের আবাসিক ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর একটি ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দক্ষিণ লেবাননের এক শহরে থাকা এই অবকাঠামোটি নিজেদের একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করত হিজবুল্লাহ। রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে হিজবুল্লাহর ওই ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংসের কথা কথা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননের মাজদাল জোউন শহরে থাকা ২০০ মিটার (৬৫৬ ফুট) দীর্ঘ এই টানেলটিকে লক্ষ্যস্থল করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি নিরাপত্তা চুক্তি করার দুই দিন পর ইসরায়েল আলোচিত এই টানেলটি ধ্বংস করল। এই নিরাপত্তা চুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহার ও সেখানে লেবাননি সেনা মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাদের আপাতত দক্ষিণ লেবাননের একটি বর্ধিত অঞ্চলে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। টানেলটিতে শত শত অস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ছিল বলে ইসরায়েলের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে।