ঢাকা    রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

বিশ্বকাপে নরওয়ের ইতিহাস গড়ার নায়ক হালান্ডের জীবনে ভালোবাসা এসেছিল একেবারে চুপিসারে। এর জন্য ফুটবলকে ধন্যবাদ জানাতেই পারেন এই ‘ভাইকিং রাজা’। নরওয়ের আধুনিক রূপকথার রচয়িতা হালান্ডকে ফুটবল কী দেয়নি, সেটা নিয়েই আলোচনা হতে পারে।

হালান্ড ও ইসাবেলের প্রেমের সেতু ফুটবল



হালান্ড ও ইসাবেলের প্রেমের সেতু ফুটবল
আর্লিং হালান্ডের শহরে ফুটবল একাডেমিতে প্র্যাকটিস করতেন ইসাবেল। বড় হয়ে মন বিনিময় করেন দুজনে। এখন তারা গভীর সম্পর্কে। ছবি - এএফপি

 ‘কিং অব সোল’খ্যাত প্রখ্যাত মার্কিন গায়ক ও গীতিকার স্যাম কোক ভালোবাসার মানুষের জন্য রোমানদের প্রেমের দেবতা কিউপিডের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন। ষাটের দশকের শুরুতে নিজের অন্যতম জনপ্রিয় গানে স্যাম কোক গেয়েছিলেন– ‘কিউপিড, ড্র ব্যাক ইউর বো; অ্যান্ড লেট ইউর অ্যারো গো; স্ট্রেইট ফর মাই লাভারস হার্ট ফর মি।’ তবে বর্তমান সময়ের আলোচিত ফুটবলার নরওয়ের ম্যানসিটি স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের জীবনে না চাইতেই ধরা দিয়েছিল প্রেম। তাই প্রেম বিষয়ে তাঁর উপলব্ধিও অনেকটা দার্শনিকদের মতো, ‘যদি তুমি সবসময় ভালোবাসার মানুষের (গার্লফ্রেন্ড) প্রতীক্ষায় থাকো, তাহলে তোমার জীবনে এমন কাউকে খুঁজে পাবে না। আর যখন এমন কাউকে পাওয়ার বিষয়ে তোমার তেমন প্রত্যাশা থাকবে না, এমন সময়েই ভালোবাসার মানুষ জুটে যাবে।’

বিশ্বকাপে নরওয়ের ইতিহাস গড়ার নায়ক হালান্ডের জীবনে ভালোবাসা এসেছিল একেবারে চুপিসারে। এর জন্য ফুটবলকে ধন্যবাদ জানাতেই পারেন এই ‘ভাইকিং রাজা’। নরওয়ের আধুনিক রূপকথার রচয়িতা হালান্ডকে ফুটবল কী দেয়নি, সেটা নিয়েই আলোচনা হতে পারে। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, বিশ্বজুড়ে খ্যাতি, ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসা, বিপুল অর্থবিত্তের সঙ্গে ভালোবাসার মানুষ– সবকিছুই পেয়েছেন ফুটবলের বদৌলতে।

হালান্ড ও তাঁর বান্ধবী ইসাবেল হাগসেং ইয়োহানসেন (২২) উভয়েই নরওয়ের ব্রাইন শহরের বাসিন্দা। কিশোর বয়সে হালান্ডের মতো ইসাবেলও নিজ শহরের ব্রাইন এফকে ক্লাবের একাডেমি মাঠে ফুটবল খেলতে যেতেন। দুজনই ক্লাবটির যুবদলে খেলেন। কিন্তু হালান্ডের মতো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি ইসাবেলের। পরে ইনফ্লুয়েন্সার ও মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেন। 

এদিকে ছোটবেলায় হালান্ড ও ইসাবেলের পরিচয় হলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না। উভয়ের বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা শুরু হয় যখন হালান্ড জার্মানিতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলা শুরু করেন। একদিন ইনস্টাগ্রামে নিজ শহরের ফুটবল তারকাকে খুঁজে বের করে বার্তা পাঠান ইসাবেল। আলাপচারিতা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে মনের আদান-প্রদান ঘটে। ২০২১ সাল থেকে দুজন এক ছাদের নিচে থাকা শুরু করেন। ২০২৪-এর ডিসেম্বরে ছেলে সন্তানের বাবা-মা হন হালান্ড ও ইসাবেল। 

হালান্ড ও ইসাবেল– উভয়ই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন গণমাধ্যমের আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। এমনকি সন্তানের নাম পর্যন্ত প্রকাশ করেননি তারা। ফুটবলের বাইরে এই জুটির পছন্দের বিষয় হচ্ছে একসঙ্গে রান্নাবান্না করা ও নিজ শহরে কোলাহলহীন সান্ধ্যকাল উপভোগ এবং ভিডিও গেম খেলা। হালান্ড বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমরা ব্রাইন (নরওয়ে) শহরে যাই। সন্ধ্যায় ঘুরে বেড়াই এবং পরিচিত রেস্তোরাঁ থেকে কাবাব ও পিৎজা অর্ডার করি। এটা প্রকাশ করায় সে বিব্রত হতে পারে যে আমরা একসঙ্গে বসে ভিডিও গেম খেলি। দুজনই মাইনক্রাফট খেলি। একসঙ্গে খেলতে বসে দুজনে মিলে পছন্দের ঘরবাড়ি বানাতে শুরু করি (মাইনক্রাফট গেমের মূল থিম)। আবার কখনও কখনও সে ভিডিও গেম খেলতে থাকলে আমি দুজনের জন্য রাতের খাবার রান্না করি।’

বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল আর্লিং হালান্ড

The Campus Times online

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


হালান্ড ও ইসাবেলের প্রেমের সেতু ফুটবল

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

 ‘কিং অব সোল’খ্যাত প্রখ্যাত মার্কিন গায়ক ও গীতিকার স্যাম কোক ভালোবাসার মানুষের জন্য রোমানদের প্রেমের দেবতা কিউপিডের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন। ষাটের দশকের শুরুতে নিজের অন্যতম জনপ্রিয় গানে স্যাম কোক গেয়েছিলেন– ‘কিউপিড, ড্র ব্যাক ইউর বো; অ্যান্ড লেট ইউর অ্যারো গো; স্ট্রেইট ফর মাই লাভারস হার্ট ফর মি।’ তবে বর্তমান সময়ের আলোচিত ফুটবলার নরওয়ের ম্যানসিটি স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের জীবনে না চাইতেই ধরা দিয়েছিল প্রেম। তাই প্রেম বিষয়ে তাঁর উপলব্ধিও অনেকটা দার্শনিকদের মতো, ‘যদি তুমি সবসময় ভালোবাসার মানুষের (গার্লফ্রেন্ড) প্রতীক্ষায় থাকো, তাহলে তোমার জীবনে এমন কাউকে খুঁজে পাবে না। আর যখন এমন কাউকে পাওয়ার বিষয়ে তোমার তেমন প্রত্যাশা থাকবে না, এমন সময়েই ভালোবাসার মানুষ জুটে যাবে।’

বিশ্বকাপে নরওয়ের ইতিহাস গড়ার নায়ক হালান্ডের জীবনে ভালোবাসা এসেছিল একেবারে চুপিসারে। এর জন্য ফুটবলকে ধন্যবাদ জানাতেই পারেন এই ‘ভাইকিং রাজা’। নরওয়ের আধুনিক রূপকথার রচয়িতা হালান্ডকে ফুটবল কী দেয়নি, সেটা নিয়েই আলোচনা হতে পারে। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, বিশ্বজুড়ে খ্যাতি, ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসা, বিপুল অর্থবিত্তের সঙ্গে ভালোবাসার মানুষ– সবকিছুই পেয়েছেন ফুটবলের বদৌলতে।

হালান্ড ও তাঁর বান্ধবী ইসাবেল হাগসেং ইয়োহানসেন (২২) উভয়েই নরওয়ের ব্রাইন শহরের বাসিন্দা। কিশোর বয়সে হালান্ডের মতো ইসাবেলও নিজ শহরের ব্রাইন এফকে ক্লাবের একাডেমি মাঠে ফুটবল খেলতে যেতেন। দুজনই ক্লাবটির যুবদলে খেলেন। কিন্তু হালান্ডের মতো ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি ইসাবেলের। পরে ইনফ্লুয়েন্সার ও মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেন। 

এদিকে ছোটবেলায় হালান্ড ও ইসাবেলের পরিচয় হলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না। উভয়ের বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা শুরু হয় যখন হালান্ড জার্মানিতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলা শুরু করেন। একদিন ইনস্টাগ্রামে নিজ শহরের ফুটবল তারকাকে খুঁজে বের করে বার্তা পাঠান ইসাবেল। আলাপচারিতা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে মনের আদান-প্রদান ঘটে। ২০২১ সাল থেকে দুজন এক ছাদের নিচে থাকা শুরু করেন। ২০২৪-এর ডিসেম্বরে ছেলে সন্তানের বাবা-মা হন হালান্ড ও ইসাবেল। 

হালান্ড ও ইসাবেল– উভয়ই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন গণমাধ্যমের আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। এমনকি সন্তানের নাম পর্যন্ত প্রকাশ করেননি তারা। ফুটবলের বাইরে এই জুটির পছন্দের বিষয় হচ্ছে একসঙ্গে রান্নাবান্না করা ও নিজ শহরে কোলাহলহীন সান্ধ্যকাল উপভোগ এবং ভিডিও গেম খেলা। হালান্ড বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমরা ব্রাইন (নরওয়ে) শহরে যাই। সন্ধ্যায় ঘুরে বেড়াই এবং পরিচিত রেস্তোরাঁ থেকে কাবাব ও পিৎজা অর্ডার করি। এটা প্রকাশ করায় সে বিব্রত হতে পারে যে আমরা একসঙ্গে বসে ভিডিও গেম খেলি। দুজনই মাইনক্রাফট খেলি। একসঙ্গে খেলতে বসে দুজনে মিলে পছন্দের ঘরবাড়ি বানাতে শুরু করি (মাইনক্রাফট গেমের মূল থিম)। আবার কখনও কখনও সে ভিডিও গেম খেলতে থাকলে আমি দুজনের জন্য রাতের খাবার রান্না করি।’


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
হালান্ড ও ইসাবেলের প্রেমের সেতু ফুটবল
0:00 0:00
1.0x