আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া মুখোমুখি বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়াচ্ছে
দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারো বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে অস্ট্রিয়া। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চায় দলটা।
আর সেই মিশনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি অপেক্ষা করছে আগামীকাল। গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে সোমবার তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটির আগে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ড তারকা কনরাড লাইমার।
ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে দেয়া সাক্ষাৎকারে লাইমার বলেন ‘আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তাই তারাই বর্তমানে বিশ্বের সেরা দল। আর মেসি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।’
তবে প্রশংসার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জটিও সাদরে গ্রহণ করতে প্রস্তুত তিনি। লাইমারের মতে, মেসির মতো কিংবদন্তির বিপক্ষে খেলা মানে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সেরা সুযোগ।
তিনি বলেন ‘এ ধরনের ফুটবলারের মুখোমুখি হওয়া সবসময়ই বিশেষ কিছু। কারণ তখনই বোঝা যায় আপনি আসলে কোন পর্যায়ে আছেন।’
প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছে অস্ট্রিয়া। ফলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভালো ফল কিংবা পরের ম্যাচে জয় পেলেই নকআউট পর্বের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে যাবে তারা।
অস্ট্রিয়ার আত্মবিশ্বাসের অন্যতম কারণ কোচ রাল্ফ রাংনিক। তার অধীনে দলটি গড়ে তুলেছে আক্রমণাত্মক, দ্রুতগতির এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ এক খেলার ধরন, যা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
লাইমার বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমরা একটি সত্যিকারের দল। সবাই জাতীয় দলের হয়ে জিততে চায়, ভালো ফুটবল খেলতে চায়। মাঠের ভেতরে ও বাইরে আমাদের বোঝাপড়া অসাধারণ। কোচের একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা আছে, আর আমরা সেই পরিকল্পনায় বিশ্বাস করি।’
২৮ বছর বয়সী লাইমারের জন্য এবারের বিশ্বকাপও প্রথম। তাই অস্ট্রিয়ার প্রত্যাবর্তনের গল্পের সাথে জড়িয়ে আছে তার ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণের গল্পও।
লাইমার বলেন ‘আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। আগে কখনো বিশ্বকাপে খেলিনি। অস্ট্রিয়াও দীর্ঘ ২৮ বছর পর এখানে ফিরেছে। জাতীয় দলের হয়ে এমন একটি টুর্নামেন্টে খেলা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।’
ডেভিড আলাবা, মার্সেল সাবিৎসার এবং মার্কো আরনাউটোভিচদের মতো অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া এই অস্ট্রিয়া বিশ্বাস করে, বিশ্বকাপে কোনো দলই অজেয় নয়।