ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

‘শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কখনো বদলাবে না’, আত্মহত্যার আগে শিক্ষিকার ভিডিওবার্তা

ওই শিক্ষিকার নাম সৃষ্টি কান্ধারি। তিনি দেহরাদুল শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে দইওয়ালা এলাকায় বসবাস করতেন। গত বুধবার নিজ বাসভবনে তিনি আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে ধারণকৃত ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সৃষ্টিকে তাঁর মায়ের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, গত ছয় মাস ধরে তিনি চরম মানসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর ঘটা নানা ঘটনার জন্য তাঁকে প্রতিনিয়ত দায়ী করা হতো এবং ‘অপয়া’ বা ‘অভিশপ্ত’ বলে গালিগালাজ করা হতো। পরিস্থিতি সহ্যসীমার বাইরে চলে যাওয়ার কারণেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানান। ফোঁপাতে ফোঁপাতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘সরি, মা! আমি এভাবেই চিরতরে চলে যাচ্ছি। সবকিছু কেমন অদ্ভুত লাগছে। ছয় মাস ধরে আমি এসব সহ্য করে যাচ্ছি...আর পারছি না। তাদের মানসিকতা কখনো বদলাবে না। আমাদের বিয়ের পর যা কিছু ঘটছে সবকিছুর জন্যই আমার দোষ ধরা হচ্ছে। (তারা আমাকে) অভিশপ্ত, অপয়া বলে।’ ঘটনার পর সৃষ্টির মা পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নিহত নারীর স্বামী সৌরভ রাতুড়ি, শাশুড়ি পারভীনা এবং ননদ চারুর বিরুদ্ধে প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) নথিভুক্ত করেছে। সৃষ্টির স্বামী সৌরভ নিজেও একজন সরকারি কর্মচারী। গত বছরের নভেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। ঘটনার বিষয়ে দইওয়ালার সার্কেল অফিসার বন্দনা ভার্মা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশ কর্মকর্তা ভার্মা বলেন, ‘মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের মায়ের পক্ষ থেকে যৌতুক দাবি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। যৌতুক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।’ পুলিশ ঘটনার পেছনের আইনি ও ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছে।

‘শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কখনো বদলাবে না’, আত্মহত্যার আগে শিক্ষিকার ভিডিওবার্তা