ওয়েব সিরিজ এর দৃশ্য নকল করে স্ত্রীকে হত্যা
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিজটি দেখে একই কৌশল অনুসরণ করে দিল্লির এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী দীর্ঘদিনের সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার স্ত্রীকে হত্যা করেন। এরপর তিনি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র লুকিয়ে ফেলেন এবং তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন।
গত ৩০ জুলাই অভিযুক্ত কমল সিং ও তার স্ত্রী কোমল সিং বাড়িতে একা থাকাকালে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তাদের ছেলে লাইব্রেরিতে এবং মেয়ে অফিসে ছিলেন। বাড়ির গৃহকর্মীও কাজ শেষ করে চলে গিয়েছিলেন। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে কোমল বারান্দায় কাপড় শুকাচ্ছিলেন। এ সময় কমল পেছন থেকে অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম আঘাতটি প্রাণঘাতী না হওয়ায় কোমল চিৎকার করে রান্নাঘরে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কমল তার চুল ধরে বসার ঘরে টেনে আনেন এবং কাঁচি দিয়ে বারবার আঘাত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর চিৎকার আশপাশের লোকজন শুনতে পেলেও কেউ হস্তক্ষেপ করেনি। কমলের বাবা এমনকি তার মাকেও গিয়ে খোঁজ নিতে বলেছিলেন। কিন্তু কমল তাকে তাদের ব্যাপারে নাক না গলানোর অনুরোধ করেন।
স্ত্রীকে হত্যার পর কমল রক্তমাখা পোশাক ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ব্যাগে ভরে প্রায় ১৫ মিনিট গোসল করেন। এরপর নিজের স্কুটারে করে পালিয়ে যান। যাওয়ার পথে একটি নির্জন স্থানে ব্যাগটি ফেলে দেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, কমল তার স্ত্রীর ঘর থেকে আগে থেকেই নেওয়া নগদ ৫ লাখ রুপি ছাড়াও দুটি পৃথক ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৭ লাখ রুপি তুলে নেন। সব মিলিয়ে তার কাছে প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার রুপি ছিল।
কমল নিখোঁজ থাকায় পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ইলেকট্রনিক প্রমাণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। প্রাথমিকভাবে কমল মোবাইল ফোন চালু রেখে গোরখপুরের দিকে রওনা দেন। এতে পুলিশ ধারণা করে, তিনি নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন। তবে গোরখপুরে পৌঁছে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে মথুরার দিকে রওনা দেন।
তিন দিন ধরে ব্যাপক তল্লাশির পর দিল্লি পুলিশ মথুরা রেলস্টেশনের কাছ থেকে কমলকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে তার স্কুটার জব্দ করা হয়। পাশাপাশি তার কাছ থেকে নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, কমল নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। গত এক বছর ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে চরম টানাপোড়েন চলছিল। মুম্বাই সফরের সময় কমল অন্য এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। এতে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটে। তারা একই বাড়িতে থাকলেও বিদ্যুতের বিল আলাদাভাবে পরিশোধ করতেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমল জগৎপুরীতে একটি জমি কিনতে চেয়েছিলেন। তিনি জমিটি তার বাবার নামে নিবন্ধন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোমল সেখানে নিজের অংশ দাবি করায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সম্পত্তি-সংক্রান্ত এই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।