ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে সেই অংশটুকু ধুয়ে নামাজ পড়া যাবে কি?

শিশু আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। একটি শিশুকে লালন-পালনের সময় বাবা-মাকে নানাবিধ বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো শিশুর প্রস্রাব কাপড় বা শরীরে লেগে যাওয়া। বিশেষ করে দুগ্ধপোষ্য বা শুধুমাত্র তরল খাবার গ্রহণকারী শিশুদের প্রস্রাবের বিধান নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। অনেকে জানতে চান— ছোট সন্তান কাপড়ে প্রস্রাব করলে সেই অংশটুকু ধুয়ে বা পানি ছিটিয়ে ওজু করে নামাজ আদায় করা যাবে কি না? ছেলে ও মেয়ে শিশুর ক্ষেত্রে কি একই বিধান প্রযোজ্য? এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। হ্যাঁ, ছোট সন্তান কাপড়ে প্রস্রাব করলে সেই নাপাক অংশটুকু পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেললেই কাপড় পবিত্র হয়ে যায়। পুরো কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন নেই, তবে নাপাকি দূর হওয়া শর্ত। কাপড় ধুয়ে পবিত্র করার পর ওযু করে নামাজ পড়া যাবে। পবিত্রতা সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশনা পবিত্রতা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ‘আর তোমার পোশাককে পবিত্র রাখো।’ (সুরা আল-মুদ্দাসসির: আয়াত ৪) এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, নামাজ ও ইবাদতের জন্য শরীর, পোশাক ও স্থান পবিত্র রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুগ্ধপোষ্য শিশুর প্রস্রাব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল হজরত উম্মু কাইস বিনতে মিহসান (রা.) বর্ণনা করেন—  أَنَّهَا أَتَتْ بِابْنٍ لَهَا صَغِيرٍ لَمْ يَأْكُلِ الطَّعَامَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَجْلَسَهُ فِي حِجْرِهِ فَبَالَ عَلَى ثَوْبِهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ ‘আমি আমার এমন এক দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলাম, যে তখনও শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করেনি। শিশুটি নবী (সা.)-এর কাপড়ে প্রস্রাব করে দিলে তিনি পানি আনতে বললেন এবং প্রস্রাবের স্থানে পানি ছিটিয়ে দিলেন, কিন্তু তা ধৌত করলেন না।’ (বুখারি ২২৩, মুসলিম ২৮৭) ছেলে ও মেয়ে শিশুর প্রস্রাবের বিধানে পার্থক্য দুগ্ধপোষ্য বা শুধু তরল খাবার গ্রহণকারী শিশু যদি কন্যা সন্তান হয়, তাহলে তার প্রস্রাব লাগা কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে। তবে দুগ্ধপোষ্য পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে শরিয়তে কিছুটা সহজতা রাখা হয়েছে, যার প্রমাণ একাধিক হাদিসে পাওয়া যায়— ১. হজরত আবু সামহ (রা.)-এর বর্ণনা— يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الْجَارِيَةِ وَيُنْضَحُ مِنْ بَوْلِ الْغُلَامِ ‘মেয়ে শিশুর প্রস্রাব ধুয়ে ফেলতে হবে, আর ছেলে শিশুর প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট।’ নাসাঈ ৩০৩, ইবনে মাজাহ ৫২৫) ২. হজরত আলী (রা.)-এর বর্ণনা— يُغْسَلُ بَوْلُ الْجَارِيَةِ وَيُرَشُّ بَوْلُ الْغُلَامِ مَا لَمْ يَطْعَمْ ‘মেয়ে শিশুর প্রস্রাব ধুতে হবে এবং ছেলে শিশুর প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট—যতক্ষণ না সে শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করে।’ (ইবনে মাজাহ ৫২৬) ৩. হজরত লুবাবাহ বিনতে হারিস (রা.)-এর বর্ণনা— إِنَّمَا يُغْسَلُ مِنْ بَوْلِ الْأُنْثَى وَيُنْضَحُ مِنْ بَوْلِ الذَّكَرِ ‘মেয়ে শিশুর প্রস্রাব ধুয়ে ফেলতে হয়, আর ছেলে শিশুর প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট।’ (ইবনে মাজাহ ৫২৪) আরও পড়ুনআরও পড়ুনস্বামীর নাম-পদবি নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করা কি বৈধ? ইসলামি স্কলারদের সিদ্ধান্ত উপরোক্ত হাদিসসমূহের আলোকে ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের সিদ্ধান্ত হলো— যদি শিশু ছেলে হয় যদি শিশু মেয়ে হয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন ছেলে শিশু শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করবে, তখন তার প্রস্রাবের ক্ষেত্রেও সাধারণ নাপাকির বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তখন প্রস্রাব লাগা কাপড় অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে। শুধু পানি ছিটিয়ে দিলে পবিত্র হবে না। ইসলাম সহজ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। শিশুদের পরিচর্যার ক্ষেত্রে শরিয়ত বিশেষ সহজতা প্রদান করেছে। তবে সেই সহজতার সীমা ও শর্তগুলো জানা জরুরি। হাদিসের আলোকে দেখা যায়, শুধুমাত্র দুগ্ধপোষ্য ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দেওয়া যথেষ্ট হলেও মেয়ে শিশুর প্রস্রাব ধুয়ে পবিত্র করতে হবে। আর ছেলে শিশু শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করলে তার ক্ষেত্রেও কাপড় ধোয়া আবশ্যক। তাই নামাজের আগে পবিত্রতার বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।

শিশুর প্রস্রাব কাপড়ে লাগলে সেই অংশটুকু ধুয়ে নামাজ পড়া যাবে কি?