ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় যুবকের আত্মহত্যা!

পারিবার ও বন্ধুমহল সূত্রে জানা যায়, সুমন আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিল। তাই আর্জেন্টিনার হার সইতে না পেরে অভিমান করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুমন হোসেন (৩২) উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ চাষি ক্লাব এলাকার মো. আফজাল হোসেনের একমাত্র ছেলে। পারিবারিক ও স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, ভ্যানচালক সুমন হোসেন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল খেলা দেখে ভোর ৪টার সময় বাসায় ফিরেন। তিনি এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন। এ উপলক্ষে রোববার রাতে তিনি তার নিজের পক্ষ থেকে খিচুড়ি ও গোস্ত রান্নার আয়োজনও করেছিলেন। খেলার শেষপর্যায়ে বাসায় ফিরে নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে সুমন বিছানায় শুয়ে মোবাইল দেখছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী জেমি খাতুন তাকে ঘুমিয়ে পড়তে বলে নিজেও ঘুমিয়ে যান। জেমি খাতুন ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উঠে দেখেন তার স্বামী শয়ন কক্ষের বাঁশের আড়ার সঙ্গে লাইলনের দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। তার চিৎকার চেঁচামেচিতে পরিবারের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় তার চাচাশ্বশুর রবজেল ও প্রতিবেশী আব্দুল জলিল তাকে রশি কেটে নামিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুমনের বন্ধু রিপন আলী বলেন, সুমন আর্জেন্টিনার খুব বড় ভক্ত ছিল। রোববার রাতে সে আমাদের সবার জন্য খাবারও আয়োজন করেছিল। আমরা একসঙ্গে খেলা দেখতাম। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। মৃতের বাবা আফজাল হোসেন বলেন, সুমন খেলা দেখে যখন বাসায় ঢুকে, আমি তখন মাঠে যাচ্ছিলাম। পরবর্তীতে আমার ভাই রবজেল মাঠে গিয়ে আমাকে ছেলের মৃত্যুর খবর দেয়। তার পরিবারে দুটি ছোট বাচ্চা আছে তাদের কী হবে? এটাই ভাবছি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, সুমন আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে পারেনি। তাই অভিমানে এমনটি করেছে। ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, শুনেছি তিনি আর্জেন্টিনার বড় ভক্ত ছিলেন। এজন্য রোববার খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও করেছিলেন। হয়তো হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের অভিযোগ না থাকায়, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় যুবকের আত্মহত্যা!