দুই দিনে ১৭০ ইরানি স্থাপনায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, নিহত ১৪
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরান-মাশহাদ রেলপথের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে আজ মাশহাদে দাফনের প্রস্তুতি চলার মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী গত দুই দিনে ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব হামলায় ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, মার্কিন হামলায় আহত ৭৮ জনের মধ্যে ৪৭ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক উপ-গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি আইআরএনএকে বলেন, ‘আজ ভোরে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র শাসনব্যবস্থা আহভাজ শহরের উপকণ্ঠে একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।’ আহতদের মধ্যে বাকি ব্যক্তিদের চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে—তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা হামলা সম্পন্ন করেছে। তাদের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ‘মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ-সামরিক সক্ষমতা এবং ইরানের উপকূলজুড়ে অবস্থিত সামরিক রসদ ও লজিস্টিক অবকাঠামো।’ সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ‘সর্বশেষ এই হামলাগুলো আগের রাতের ইরানে পরিচালিত সফল আক্রমণাত্মক অভিযানের ধারাবাহিকতায় চালানো হয়েছে।’
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রায় এক ঘণ্টা আগে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ‘মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত কেন্দ্রগুলো’ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল কুয়েতে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারে একটি আগাম সতর্কীকরণ স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা স্থাপনা এবং বাহরাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক। ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলায় তারা ‘বিভিন্ন ধরনের বিপুল সংখ্যক ড্রোন’ ব্যবহার করেছে।
এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বোধ প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হতে দেবে না এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইসলামী বিপ্লবের মহান আদর্শ রক্ষায় অটল থাকবে।’ ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরান-মাশহাদ রেলপথের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান রেলওয়ে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে কারিগরি ও পরিচালনাগত দল পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে মেরামতের কাজ চলছে। সংস্থাটি আরও জানায়, ‘যত দ্রুত সম্ভব’ রেলপথটি পুনরায় চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।