ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
The Campus Times online

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সুনামগঞ্জের ৬ যুবক নিখোঁজ

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে খাবার ও পানির সংকটে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার অন্তত ছয় যুবকের এখনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। পথে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকার খাবার ও পানির মজুত নষ্ট হয়ে যায়। পরে গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছালে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর প্রায় নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকালে শান্তিগঞ্জের ছয় যুবকের নিখোঁজের খবর এলাকায় পৌঁছালে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনসিলেটে ভবন নির্মাণে অনুমোদন বাধ্যতামূলক নিখোঁজ অভিবাসনপ্রত্যাশী যুবকরা হলেন, পশ্চিম পাগলার শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় পাল, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া, মামুন খাঁন, রনসী গ্রামের মো. তালহা, দরগাপাশার সিচনী গ্রামের সাগর পাল। নিখোঁজ হৃদয় পালের বাবা রন্টু পাল বলেন, গত ৩১ জুলাই সর্বশেষ হৃদয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। এ সময় হৃদয় জানায় ২-১ দিনের মধ্যেই সে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এটাই ছিল হৃদয়ের সাথে সর্বশেষ কথা। এরপর আর হৃদয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।  তিনি আরও বলেন, লিবিয়ায় বসবাসরত মানবপাচারকারী চক্রের উমর আলী ও শান্তিগঞ্জের ডুংরিয়া গ্রামের দালাল কদ্দুস আলীর সাথে ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে হৃদয়কে প্রথমে ঢাকা থেকে ভারত পাঠানো হয়। ভারত থেকে শ্রীলংকা হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখান থেকে লিবিয়া পাঠানো হয় হৃদয়কে৷ তবে লিবিয়া থেকে গ্রিস পাড়ি দেওয়ার সময় থেকে নিখোঁজ রয়েছে হৃদয়৷ এ ঘটনার খোঁজ নিতে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম রন্টু পালের বাড়ি পরিদর্শন করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অপর নিখোঁজ মামুনের চাচা বলেন, আমার ভাতিজা লিবিয়া থেকে ৩ আগষ্ট সাগরপথে গ্রিসে পাড়ি জমায়। ওইদিন আমাদের সাথে ফোনকলে কথা হয় তার। এরপর থেকে আর মামুনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আমার ভাতিজাকে খুঁজে বের করে আমাদের মাঝে সুস্থ্য অবস্থায় যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনসিলেটে তিন মাসে ৫৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ উদ্ধার হয়ে মিশরে চিকিৎসাধীন শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল করিম জানান , আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় রওনা দিই। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছার পর নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের খাবার ও পানি ছিল না। খাবারের সংকটে চোখের সামনে নয়জন বাংলাদেশি মারা যান। তাদের লাশ পচন ধরায় সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরেও পচন ধরেছে। আমরা বর্তমানে মিশরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা দেশে ফিরতে চাই। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মো. ওলিউল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কোনো পরিবারে পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি। আমরা নিজ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি। 

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সুনামগঞ্জের ৬ যুবক নিখোঁজ