ঢাকা    শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে আপন দুই ভাই মনছুর ও নাছির রয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী স্টেশন রোডসংলগ্ন সাগর উপকূলে মো. লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিংয়ে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথমে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে দুপুরে আরও একজনের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আনা হলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন মো. রানা (২৫), খোকন (২৬), ভাটিয়ারী এলাকার দুই ভাই মনছুর ও নাছির এবং হাবিবুর রহমান। চমেক হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক আহমেদ জানান, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হলে তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আরও একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত অপর শ্রমিককে ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস বিস্ফোরণে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পেয়ে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাই মনছুর ও নাছিরের মৃত্যুতে ভাটিয়ারী এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। হাসপাতালে ছুটে আসা মনছুরের বোনজামাই মো. মহিউদ্দিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, মাত্র কয়েক দিন আগেও কারখানায় কাজ করতে কষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মনছুর। এমনকি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন তিনি। নিহত খোকনের চাচা ও কারখানাটির সাবেক শ্রমিক আঙ্গুর আলী বলেন, সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পান। বিস্ফোরণের পর শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলেন। গ্যাসের কারণে প্রথম দিকে ভেতরে ঢোকাও সম্ভব হচ্ছিল না। পরে খোকনসহ পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে কীভাবে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পর সীতাকুণ্ড থানার ওসিকে জানানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে হাবিবুর রহমান নামে আরও এক শ্রমিকের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। নিহত ছয়জনের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৬