ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
The Campus Times online

সখীপুরে অসুস্থতার কারণে রাস্তায় ফেলে যাওয়া সেই জামাল উদ্দিনের মৃত্যু

দীর্ঘ প্রবাস জীবনে যা উপার্জন করেছিলেন, তার সবটুকুই খরচ করেছিলেন স্ত্রী, সন্তানদের জন্য। কিন্তু দেশে ফিরে যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন সেই স্ত্রী, সন্তানই তাঁকে পরিত্যক্ত ছেঁড়া কাগজের মতো পথে ফেলে গেলেন। টাঙ্গাইলের সখীপুরের সেই ভাগ্য বিড়ম্বিত মানুষটি আজ জগতের সকল লেনদেন চুকিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। স্বজনের সকল অপমান, অসহায়ত্ব, একাকীত্ব বা অসুস্থতার যন্ত্রণা--- কোন কিছুই আর স্পর্শ করতে পারবে না জামাল উদ্দিনকে (৫৫)। আজ সোমবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জামাল উদ্দিনের ভাতিজি জামাই শাহ আলম বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শাহ আলম বলেন, ‘রাস্তা থেকে উদ্ধার করার পর জামাল উদ্দিন এতদিন তাঁর বাড়িতেই ছিলেন। স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগিতায় কিছু চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে সেই চিকিৎসা পর্যাপ্ত ছিল না। তাঁর ভাষ্য, “মূলত তাঁর কিডনিজনিত জটিল রোগ ছিল। চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল। আমরা গরিব মানুষ এত টাকা কোথায় পাবো!’ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহ আলম আরও বলেন, সোমবার দুপুরে জামাল উদ্দিন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁর জানাজা ও দাফনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছিল। জামাল উদ্দিন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। প্রায় ১৪ বছর আগে তিনি পৈতৃক ভিটাসহ সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে দীর্ঘ ১০ বছর তিনি সৌদি আরবে ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রবাসজীবনের উপার্জিত সব টাকা জামাল উদ্দিন স্ত্রী-সন্তানের কাছে পাঠিয়েছেন। মাস চারেক আগে দেশে ফিরে স্ত্রীর নানা অপকর্ম তাঁর কাছে ধরা পড়ে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিবাদের একপর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়। পরে তিনি ছেলে আবু রায়হানের সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করতে থাকেন। সেখানে তাঁর কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা করার পরিবর্তে একটি গাড়িতে করে অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে সখীপুরের পৈত্রিক ভিটায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত ১ আগস্ট রাতে তাঁকে সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামে তাঁর পৈতৃক বাড়ির সামনে ফেলে রেখে গাড়িচালক চলে যান। পরদিন ২ আগস্ট দিনের বেলায় বিষয়টি সবার নজরে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় “অসুস্থতার কাছে হার মানল পারিবারিক বন্ধন: পথে ফেলে গেল স্বজন” শিরোনামে আজকের পত্রিকাসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সখীপুরে অসুস্থতার কারণে রাস্তায় ফেলে যাওয়া সেই জামাল উদ্দিনের মৃত্যু