রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
রংপুর মহানগরীতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ বলছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি সাপ্লাই, ডিভাইস সরবরাহ, প্রশ্নফাঁসসহ নানা ধরনের জালিয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার কামাল কাছনা চিরারমিল এলাকার ফেরদৌস আলমের ছেলে তাওরাত আকরাম (২৭), সাতগাড়া এলাকার মোবারক আলীর ছেলে বাধন মিয়া (৩৭), ধাপ মোহাম্মদপুর এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে সাহেব আলী (২৬), বদরগঞ্জের তালুক দামোদরপুর এলাকার ইমদাদুল হকের ছেলে আতিকুর রহমান (৩৪), দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের তেলীপাড়া এলাকার রিয়াজুল ইসলামের ছেলে হাফিজ আল মামুন (২০) ও আশরাফুল ইসলাম (৩৬)।
আজ শনিবার দুপুরে রংপুর মহানগর ডিবি কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল গভীর রাতে ধাপ জেল রোড এলাকার আরজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের একটি ভবনের নিচতলায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি কক্ষে অবস্থানরত ছয়জনকে আটক করা হয়।
উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সাম্প্রতিক পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানে তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ৮টি স্বাক্ষরিত ব্যাংক চেক, ৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ৪টি মূল সার্টিফিকেট এবং ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
সনাতন চক্রবর্তী আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি সাপ্লাই ও ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চক্রটি প্রার্থীদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প, চেক ও অর্থ সংগ্রহ করে প্রতারণা করত বলেও জানা গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের বাড়ি রংপুরে এবং দুজনের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। তাঁদের মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, যিনি আগেও একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে ৫২ দিন কারাভোগ করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আরেকজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেও চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন।