খাবার দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার শিশু, গ্রেপ্তার ইমাম
ময়মনসিংহের ত্রিশালে মসজিদের ইমামের জন্য খাবার পৌঁছে দিতে গিয়েছিল ১০ বছর বয়সী এক শিশু। এ সময় ধন্যবাদ প্রাপ্তির পরিবর্তে উল্টো ধর্ষণের শিকার হতে হলো তাকে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমাম মো. ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিপাড়া (পাঁচ রাস্তার মোড়) এলাকার খালেক মণ্ডল জামে মসজিদ থেকে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি নিয়মিত ইমামের জন্য নির্ধারিত খাবার পৌঁছে দিত। গত শুক্রবার খাবার দিতে গিয়ে মসজিদেই সে ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ভয় ও লজ্জায় বিষয়টি কাউকে না জানালেও পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে খুলে বলে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা অভিযুক্ত ইমাম মো. ইব্রাহিমকে আটক করেন। আটকের পর উপস্থিত লোকজনের প্রশ্নের মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে অভিযুক্ত ইমাম শিশুটিকে একদিন ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করছে—এমনটি দেখা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে থানা হেফাজতে নেয়। মো. ইব্রাহিমের বাড়ি উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিরামপুর বাজার এলাকায়।
ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইমামকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রেজাউল করিম শান্ত বলেন, “গণপিটুনির শিকার এক ব্যক্তিকে ত্রিশাল থানা-পুলিশ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ বলেন, “ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
এদিকে তিন দিনের ব্যবধানে একই উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দ্বিতীয়বার কোনো মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।