ঢাকা    শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির ৭ বছরের কারাদণ্ড

শুক্রবার (২৬ জুন) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের রায়ে বলা হয়, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কিম মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছিলেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক জো সুন-পিয়ো বলেন, রাষ্ট্রপতির স্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সর্বোচ্চ সংযম ও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। কিন্তু কিম কিয়ন হি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে নিজের প্রভাব ব্যবহার করে বারবার মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছেন। আদালত কিমের কাছ থেকে পাওয়া ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলসের হীরার নেকলেস, টিফানির ব্রোচ, ডিওরের হ্যান্ডব্যাগ, সোনার কচ্ছপের মূর্তির সংরক্ষণ বাক্স এবং শিল্পী লি উফানের একটি চিত্রকর্ম রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন। ধূসর রঙের স্যুট ও সাদা মাস্ক পরে আদালতে উপস্থিত কিম রায় শোনার সময় মাথা নিচু করে ছিলেন। তিনি উপহার গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও দাবি করেন, এর সঙ্গে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানো বা সুবিধা আদায়ের সম্পর্ক ছিল না। গত বছরের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর থেকে একাধিক মামলায় তার বিচার চলছে। রায়ের পর কিমের আইনজীবীরা বলেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই 'শিথিল ব্যাখ্যার' ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ কৌঁসুলির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে সিওহি কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান লি বং-কোয়ানের কাছ থেকে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ওন (প্রায় ৯০ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যের হীরার নেকলেসসহ বিভিন্ন গয়না গ্রহণ করেছিলেন কিম। অভিযোগে বলা হয়, এর বিনিময়ে চেয়ারম্যানের জামাতার জন্য সরকারি পদ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালত এ অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেন। একই মামলায় লি বং-কোয়ানকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তা দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি সহায়তা বা পদপ্রাপ্তির আশায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দামি ঘড়ি, ডিওরের হ্যান্ডব্যাগ, সোনার কচ্ছপের মূর্তি, ঐতিহ্যবাহী চিত্রকর্ম এবং প্রায় ১৪ কোটি ওন মূল্যের একটি শিল্পকর্ম গ্রহণের অভিযোগেও কিমকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এসব মামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে স্থগিত কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর আগে ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ এবং শেয়ারবাজারে কারসাজি থেকে লাভবান হওয়ার পৃথক এক মামলায় আপিল আদালত কিমকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। উল্লেখ্য, কিম কিয়ন হির স্বামী ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ঘটনায় অভিশংসিত হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট পদ হারান। বর্তমানে বিদ্রোহ, সামরিক আইন জারি এবং অন্যান্য অভিযোগে তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলার বিচার চলছে। তার স্থলাভিষিক্ত প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ক্ষমতায় এসে ইউন প্রশাসন ও কিম কিয়ন হির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একাধিক বিশেষ তদন্তের অনুমোদন দিয়েছেন। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির ৭ বছরের কারাদণ্ড