ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

এটাই ফুটবল, একজন ফুটবলারের জীবন এমনই: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

পর্তুগালের জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের দীর্ঘ ২৩ বছর পর ডালাসে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলের হেরে এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২৩৩তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি এভাবে বিষাদে রূপ নেবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি নিয়ে বিশ্বমঞ্চ ছাড়লেন তিনি।  রোনালদো জানিয়েছেন, তিনি শান্ত মনে এবং তৃপ্তি নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন। তার মতে, ২০১৬ সালে পর্তুগালের হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়টি ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের সমান ছিল। ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, ‘এভাবে বিদায় নেওয়াটা দুঃখজনক, তবে আমি আমার সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি একদম পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। এটাই ফুটবল, একজন ফুটবলারের জীবন এমনই। কখনো আপনি জিতবেন, কখনো হারবেন। আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। তবে ক্যারিয়ারের বাকি অংশের ব্যাপারে ভাবার জন্য অনেক সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। আবেগে বা তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ যেভাবে ঘুম থেকে উঠেছি, আগামীকাল সকালেও ঠিক সেভাবে জাগব, মনে কোনো অনুশোচনা থাকবে না। আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানোর আগে পর্তুগাল কখনো বড় কোনো ট্রফি জেতেনি। জাতীয় দলের হয়ে আমার জেতা সেরা ট্রফি ছিল ২০১৬ সালের ইউরো, যা আমার কাছে বিশ্বকাপের সমান মর্যাদার। তাই আমি আবারও বলছি, আমি এখান থেকে পরিচ্ছন্ন বিবেক নিয়ে যাচ্ছি। আগামীকাল আরেকটি নতুন দিন আসবে এবং জীবন তার নিয়মে চলবে।’ স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হলেও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেস। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছি। ও অনুকরণীয় একজন অধিনায়ক। আমি যখন দলের দায়িত্ব নিই, তখন দলে তার অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন ছিল। শুধু গোলের সংখ্যার দিক থেকে নয়, বরং কাউন্টার-অ্যাটাকের ক্ষেত্রেও রোনালদো অনন্য।’ ক্রিশ্চিয়ানো ফুটবলের আইকন এবং তার মতো ফুটবলার খুব বেশি নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। সবশেষ ম্যাচে রোনালদোকে তুলে না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখান পর্তুগাল কোচ। তিনি বলেন, ‘দলের যখন গোলের প্রয়োজন, তখন আপনি রোনালদোর মতো খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে তুলে নিতে পারেন না। খোলা জায়গায় কিংবা ডি-বক্সের ভেতরে যেকোনো বলের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই।’ কোচ আরও বলেন, ‘ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে আমরা গনজালো রামোসের এনার্জি কাজে লাগাতে পারতাম। কিন্তু দলের মূল কাঠামো ধরে রাখা জরুরি ছিল। সেন্ট্রাল-ফরোয়ার্ড এবং দলের সেরা গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার মতো সময় সেটি ছিল না।’ এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগালের কোচ হিসেবে মার্তিনেসের অধ্যায়ও শেষ হলো। তবে তিনি হতাশার চেয়ে গর্বই বেশি খুঁজে পাচ্ছেন। মার্তিনেস বলেন, ‘আমি হতাশ নই, বরং গর্বিত। আমরা টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দলের সঙ্গে সমানে সমানে লড়েছি। এই পর্যায়ে এসে এভাবে খেলার জন্য আমাদের যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, তা নিয়ে আমি গর্ব বোধ করি।’

এটাই ফুটবল, একজন ফুটবলারের জীবন এমনই: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো