বাবা হত্যায় ছেলের যাবজ্জীবন, খালাস স্ত্রীসহ ৩
কিশোরগঞ্জে বাবা আবু বাক্কার সিদ্দিক হত্যা মামলায় ছেলে মো. সেলিমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মিজানুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় দেন।
মামলার অপর তিন আসামি নিহতের স্ত্রী মোছা. আছিয়া খাতুন, ছেলে মো. জাবেদ ও সেলিমের স্ত্রী ময়না আক্তারকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের সময় দণ্ডিত সেলিম ও তার স্ত্রী ময়না আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে সেলিমের ভাই জাবেদ ও মা আছিয়া খাতুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্প যশোদল ভুবিরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বাক্কার সিদ্দিক ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এর আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে স্ত্রী আছিয়ার প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে আবু বাক্কার স্ত্রীকে মারধর করেন। এ ঘটনার জেরে ওই রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আবু বাক্কারকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
পরদিন সকালে সেলিম বাড়ির উঠানে চিৎকার করে বলতে থাকেন, বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের পিঠেও আঘাত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা আবু বাক্কার ও সেলিমকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আবু বাক্কারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সেলিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের অপর ছেলে আবু হানিফ বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় নিহতের দুই ছেলে সেলিম ও জাবেদ, স্ত্রী আছিয়া খাতুন এবং সেলিমের স্ত্রী ময়না আক্তারকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক সঞ্জয় কুমার বণিক তদন্ত শেষে চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত সেলিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং অপর তিন আসামিকে খালাস দেন।